ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘোড়াশাল পৌরসভায় জলাবদ্ধতা ও নিষ্কাশন সমস্যা: চরমে জনদুর্ভোগ

জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী | অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম ঘোড়াশাল পৌরসভায় জলাবদ্ধতা ও নিষ্কাশন সমস্যা: চরমে জনদুর্ভোগ

উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও নরসিংদীর পলাশ উপজেলার শিল্পসমৃদ্ধ ঘোড়াশাল পৌরসভার নাগরিক জীবন আজ অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও তীব্র জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অভাব রয়েছে। তবে যে কয়েকটা আংশিক বিদ্যমান ড্রেনগুলোর অধিকাংশ দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পলিথিন, বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনায় পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি কিংবা গৃহস্থালির বর্জ্য পানিও সঠিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না।

অনেক এলাকায় পানি চলাচলের কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক পথ না থাকায় দীর্ঘ দিন পানি জমে থাকছে, ফলে আবাসিক এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ  সড়কগুলোতে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়ে  যাতায়াতকে সম্পূর্ণ অনুপযোগী করে তুলেছে। তবে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের প্রাণ গেট সংলগ্ন ভাঙ্গালপাড়া ও  পলাশ চরপাড়া,  ৬ নং ওয়ার্ডের টেঙ্গরপাড়া, উত্তর চরপাড়া, ৭ নং ওয়ার্ডের টেকপাড়া, খালিশার টেক, মিয়াপাড়া ও দক্ষিণ চরপাড়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা  । একটু বৃষ্টি হলেই এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট ও আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা পানিতে মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা ডেঙ্গুসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়া ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত বাসিন্দারা। একদিকে ৬ নং ওয়ার্ডের টেঙ্গপাড়া গ্রামের  স্থানীয় বাসিন্দারা মাহাবুব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান মেলেনি। পৌরসভার অধিকাংশ এলাকাতেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা  অকার্যকর। সামান্য বৃষ্টি হলেই পৌরসভার অধিকাংশ এলাকাসহ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায় । মাঝে মাঝে সামান্য নামকাওয়াস্তে সংস্কার কাজ হলেও তা মূল ভোগান্তি নিরসনে কোনো কাজে আসছে না। এ দিকে পৌরসভার ভাঙ্গাল পাড়া এলাকার মোবারক জানান,একটু বৃষ্টি হলেই এসব এলাকায় বসত বাড়িসহ রাস্তাঘাট তলিয়ে যায় পৌরসভায় কোন কার্যকর ড্রেনেজ  ব্যবস্থা না থাকায়  জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।  খালিশারটেক ও মিয়াপাড়া গ্রামের আসাদুল হক জানান,পৌরসভায় পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ, বেদখল নালা উদ্ধার এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত পদক্ষপে না নিলে ঘোড়াশাল পৌরসভার  নাগরিক জীবন আরও বেশি স্তব্ধ হয়ে পড়বে। 

প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, "পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত ও টেকসই ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরির প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে  ড্রেনেজ  সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।  ঘোড়াশাল  পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, পুরো পৌরসভা নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে, একটি ডিপিপি (DPP) নেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় আমরা প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। সেখান থেকে এটা অনুমোদন হয়ে আসবে বলে আমরা আশা করছি, যেহেতু আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য এখন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এটা পাস হলে আমাদের রাস্তাঘাট এবং ড্রেনেজের যেসব সমস্যার কথা বললেন, সব সমস্যাই আমরা এর মধ্যে তুলে ধরছি  এসব সমস্যা  ইনশাআল্লাহ সমাধান হবে।

কালের সমাজ/কে.পি
 

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!