ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মধুমতীর তীরে থমকে গেছে ২৫ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম মধুমতীর তীরে থমকে গেছে ২৫ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝামা বাজার এলাকার মধুমতি নদীর ঘাটটি আজ এক নীরব সাক্ষী। ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর যে ঘাটটিতে আনন্দের জোয়ার বয়ে গিয়েছিল, দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে এখন কেবলই হতাশার দীর্ঘশ্বাস। আঞ্চলিক যোগাযোগের স্বপ্ন নিয়ে চালু হওয়া ফেরিটি আজ অচল হয়ে পড়ে আছে, আর তার সাথে সাথে থমকে গেছে নদীর দুই পাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মধুমতি নদীর পূর্ব তীরের চরঝামা, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চান্দড়া, বাশতলা, বেড়িরহাট, পাচুড়িয়া, চরনারানদিয়া, ধুলজুড়ি, জুগিবরাট এবং মহম্মদপুরের ঝামা, মহেশপুর, ভবানিপুর, দেউলি, রামপুরসহ প্রায় ২৫টি গ্রামের সাধারণ মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। অথচ চালুর কিছুদিন যেতে না যেতেই কারিগরি ত্রুটি আর বর্ষার তীব্র স্রোতে পূর্বপাশের সংযোগ সড়ক ও ঘাট ভেঙে যাওয়ায় ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা চালুর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
নদীর পূর্ব পাড়ের হাতে গোনা কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য এই ঘাটটির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন বহূ শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও পথচারীকে ঝুকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে পারাপার হতে হচ্ছে। চরাঞ্চলের মানুষের গর্ভবতী নারী কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রে এই টালমাটাল নৌকা পারাপার এক মহাদুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। চরঝামা গ্রামের মো. মশিয়ার মোল্যা আক্ষেপ করে বলেন, “দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁডিয়েছে।  আমাদের কষ্টের কথা শোনার যেন কেউ নেই।”
তবে এই ঘাটে ফেরির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, এই ঘাটে যানবাহনের তেমন কোনো চাপ নেই। এই ঘাট দিয়ে ভারী কোনো যানবাহন চলাচল করেনি বললেই চলে। ফেরির গ্রীজার ম্যান আল আমীন জানান, নদীর স্রোতে পূর্বপাশের ঘাট ভেঙে যাওয়ার গত চার-পাঁচ মাস ধরে ফেরি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
মাগুরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমির আলী মোল্যা জানান, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি ঘাটটি ইজারা দেয়া হয়। ইজারদার নিয়মিত ইজারার টাকা পরিশোধ করছেন। নদীর দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ লাঘবে যোগাযোগ ব্যবস্থার এই স্থবিরতা কাটাতে দ্রুত অচল ফেরি সচল করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মাগুরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বলেন, “পূর্বপাড়ের ঘাটটি নদীর স্রোতের তোড়ে ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ফেরিটিতেও কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ঘাট সংস্কার ও মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘাটে একটি নতুন ফেরি আনার বিষয়েও আমরা জোরালো উদ্যোগ নিচ্ছি।”

 

কালের সমাজ/কে.পি

 

Link copied!