রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী ও হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। জমির হোল্ডিংয়ের কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিনিময়ে এ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম। এ ঘটনায় গত ২৫ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, আরিফুল ইসলামের বাবা আবুল কাশেম ১৯৭৭ সালে আদালতে মামলা করে জমির ডিক্রি পান। পরবর্তী সময়ে গোদাগাড়ী ভূমি অফিসের মাধ্যমে খতিয়ান প্রস্তুত ও অনুমোদন করা হয়। উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের নলিগ্রাম মৌজায় ১১টি দাগে ৪ দশমিক ৭৫ একর জমির হোল্ডিং নম্বর ২৪০। ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত জমির খাজনা পরিশোধের রসিদও রয়েছে বলে দাবি তাঁর।
আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর একটি বিবিধ মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ১ অক্টোবর যথাযথ নোটিশ ও শুনানির সুযোগ না দিয়েই হোল্ডিংটির কার্যক্রম স্থগিত এবং অনলাইনে খাজনা আদায় বন্ধ করা হয়। পরে হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট শাহিনুর রহমান তাঁকে ভূমি অফিসে ডেকে হোল্ডিংয়ের কার্যক্রম চালুর বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৪৮৬/২০০৯ নম্বর সিভিল রিভিশন মামলার কারণ দেখিয়ে হোল্ডিং স্থগিত করা হলেও ওই মামলার সঙ্গে তাঁর বাবার জমির ডিক্রির সংশ্লিষ্টতা নেই। এ ঘটনায় তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগের অনুলিপি দুদক চেয়ারম্যান, রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট শাহিনুর রহমান বলেন, তিনি মাত্র দুই মাস আগে গোদাগাড়ীতে যোগ দিয়েছেন। আরিফুল ইসলামকে তিনি চেনেন না এবং টাকা দাবির অভিযোগও মিথ্যা।
অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী বলেন, অভিযোগে উল্লেখ করা জমি সরকারি খাসজমি এবং সর্বশেষ আরএস রেকর্ডেও সরকারের নামে রয়েছে। জমি নিয়ে আদালতে মামলা ও আইনি বিরোধ চলমান থাকায় অবৈধ হস্তান্তর ঠেকাতে হোল্ডিংয়ের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এটি বাতিল বা খারিজ করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা দাবির অভিযোগও মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
কালের সমাজ/কে.পি

