ঘরের মাঠে ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ইবরাহিমের করা একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশের জন্য এই জয় ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য চেষ্টা চালালেও প্রথমার্ধে তেমন সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। শুধু গোলের অভাবই নয়, পুরো প্রথমার্ধে বাংলাদেশের খেলায় আক্রমণভাগের পরিকল্পনা ও ছন্দেরও ঘাটতি দেখা যায়।
দলের দীর্ঘদিনের সমস্যা স্বীকৃত স্ট্রাইকার বা প্রথাগত নাম্বার নাইন না থাকা। এই সংকট কাটাতে ভুটানের বিপক্ষে ভিন্ন কৌশল বেছে নেন কোচ টমাস ডুলি। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বিশ্বনাথ ঘোষকে খেলানো হয় নাম্বার নাইন পজিশনে। তবে আক্রমণভাগে প্রথমার্ধে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি তিনি।
ভুটানের বক্সে বল পেলেই গোলের চেষ্টা করেছেন বিশ্বনাথ। এ সময় একটি হেড ও একটি শট নিলেও কোনোটিই জালে জড়াতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশের আক্রমণে প্রত্যাশিত ধার তৈরি হয়নি।
উল্টো প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল হজম করার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। ভুটানের পেমার নেওয়া হঠাৎ এক শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। তাঁর অসাধারণ সেভে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। তা না হলে বিরতিতে পিছিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়তে হতো জামাল ভূঁইয়াদের।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য নিজেদের ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে বিশ্বনাথ ঘোষকে তুলে মাঠে নামানো হয় ইবরাহিমকে। মাঠে নামার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই বদলি খেলোয়াড়।
৬৯তম মিনিটে জায়ান আহমেদের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে দারুণ এক গোল করেন ইবরাহিম। তাঁর এই গোলেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে ইবরাহিমের করা একমাত্র গোলটি শুধু বাংলাদেশের জয়ই নিশ্চিত করেনি, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানেও দলকে এনে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। ম্যাচের আগে অধিনায়কত্ব নিয়েও নাটকীয়তা তৈরি হয়। আগের দিন জামাল ভূঁইয়ার কাছ থেকে নেতৃত্ব নিয়ে তপু বর্মণকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপের সময় চোটে পড়েন তপু। শেষ পর্যন্ত আবারও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ওঠে জামালের হাতে।
কালের সমাজ/কে.পি

