গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপির বাড়ী গ্রামের মালেক হাজীর পাঁচ বছর বয়সী কন্যা রহিমাকে অপহরণের ঘটনায় রাতভর যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণের অভিযোগে একই বাড়ির ভাড়াটিয়া রোমেলা (২৮) নামের এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে মালেক হাজীর ভারাটিয়া রোমেলা জুতা ও কাপড় কিনে দিতে বাড়ি থেকে রহিমাকে নিয়ে যায় কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রহিমার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণের দাবি আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিশুটির বাবা মালেক হাজী।
অভিযোগ পাওয়ার পর শ্রীপুর থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, অপহৃত শিশুটি ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার একটি এলাকায় অবস্থান করছে। এরপর শ্রীপুর থানা পুলিশ ও ফুলপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ টিম গঠন করা হয়।
যৌথ পুলিশ দল রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোর রাত আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে ফুলপুর থানার বাইতকান্দি ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে অপহরণকারী রোমেলা এবং অপহৃত শিশু রহিমাকে উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযানের সময় শিশুটি সুস্থ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
উদ্ধারের পরপরই রহিমাকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এলাকাজুড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে আসে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি নাছির আহমদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রোমেলা অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তিনি একই বাড়ির ভাড়াটিয়া হওয়ার সুবাদে শিশুটির সঙ্গে পূর্বপরিচিত ছিলেন, যা অপহরণে সহায়ক হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। মুক্তিপণের আশায়ই এই অপহরণ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, আটক নারীর বিরুদ্ধে শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী পুলিশের দ্রুত ও সফল অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, এ ধরনের অপরাধ সমাজের জন্য ভয়ংকর এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাফেরার বিষয়ে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও সফল উদ্ধার অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সবাই।


আপনার মতামত লিখুন :