বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি পক্ষ জুলাই স্বীকার করতে চান না। তাদেরকে বাচ্চা কাচ্ছা নাতি পোতা বলেন। আমি বিস্মিত, লজ্জিত। যাদের কারণে জেল থেকে মুক্তি, দেশে ফিরে আসা, নির্বাচনের কথা বলা- তারা তাদেরকে অস্বীকার করছেন, লজ্জা, এটা মেনে নেওয়া যায় না। যে উপকারের উপকার স্বীকার করে না, যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে ভালো মানুষ হতে পারে না।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আপনারা পরিবর্তন চান? পরিবর্তন চাইলে গণভোটে হ্যাঁ বলতে হবে। প্রথমে হ্যাঁ ভোটে সীল মারতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষকে হ্যাঁ ভোটে সীল মারতে হবে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
আমরা কথা দিচ্ছি, জনগণের আস্থা যদি আমাদের ওপর আসে, আমরা আশাবাদী আসবে ইনশাআল্লাহ। আমরা আস্থার প্রতিদান দেবো। আমরা যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামি বাংলাদেশ দেখতে চাই।
যুবকরা আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। তোমরা বেকার ভাতার জন্য কোন দাবি জানাওনি। বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদেরকে অপমান করতে চাই না। তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলবো। প্রত্যেকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেবো। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সাথে বলবে যে আমিই বাংলাদেশ। আমাই দেখে বুঝে নাও বাংলাদেশ কি জিনিস। আমরা সেই বাংলাদেশী গড়ে দিতে চাই।
জামায়াত আমির বলেন, আপনারা একদিকে বলছেন মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দিবেন; আরেকদিকে সেই মায়েরই গায়ে দিচ্ছেন আপনারা হাত। আপনারা মা-দেরকে কিভাবে দেখবেন এখনই বোঝা যাচ্ছে। সকালের সূর্য দেখলেই বুঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে। ভোটের আগের আবহ দেখলে বুঝা যায় কেউ নির্বাচিত হলে আগামীটা কেমন হবে। মনে রাখবেন, সেদিন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি ক্ষমা করেনি, গর্জে উঠেছিল, ফুঁসে উঠেছিল, আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন, নিজেদের কবর রচনা করবেন।
আগামী দিনে সরকার গঠন করলে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নে কাজ করবেন বলেও জানন তিনি। পরে জামায়াত আমির লক্ষ্মীপুরে চারটি আসনে ১১ দলীয় জোরের প্রার্থীদের হাতে প্রতিক তুলে দিয়ে পরিচয় করে দেন।
এতে জেলা আমীর মাষ্টার রুহুল আমিন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি মহসিন কবির মুরাদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এটিএম মাসুম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ঢাকা মহানগর উত্তরে সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া সহ আরো অনেকে।


আপনার মতামত লিখুন :