নয়ারহাট এবং ইসলামপুর এলাকার সংযোগকারী জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের পাশাপাশি লোহা চোর এবং মাদকসেবীদের বেপরোয়া তাণ্ডবে সেতুটির রেলিং এখন প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রতিদিন যাতায়াত করা কয়েক হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশ পরিকল্পিতভাবে কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লোহার পাইপ ও পাতগুলো উধাও হয়ে যাওয়ায় সেতুটি এখন অনেকটা অরক্ষিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গভীর রাতে সেতুর ওপর মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। নেশার টাকা জোগাড় করতে তারা সেতুর লোহার রেলিং কেটে ভাঙারি দোকানে বিক্রি করে দিচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, রাত বাড়লেই এখানে বখাটেদের আড্ডা বসে। তারা প্রথমে রেলিং নড়বড়ে করে, তারপর সুযোগ বুঝে সেগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। এখন ছোট বাচ্চারা এই সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় ভয় লাগে, কারণ সামান্য অসতর্ক হলেই নদীতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষোভ সেতুটির এমন বেহাল দশা হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নজরদারি বা মেরামতের উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। দিনের বেলা সাধারণ পথচারীরা ধুলোবালি আর ভাঙা ফুটপাত দিয়ে চলাচল করলেও, রাতের আঁধারে এটি এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়।
স্থানীয়দের দাবি দ্রুত চুরি হয়ে যাওয়া রেলিং পুনস্থাপন করা। রাতে সেতুর ওপর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা।মাদকসেবী ও চোর চক্র ঠেকাতে পুলিশি টহল জোরদার করা।
বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানি ঘটার আগেই নয়াহাট-ইসলামপুর সংযোগ সেতুটিকে চোর ও মাদকসেবীদের কবল থেকে মুক্ত করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন দুই পাড়ের মানুষ।
নেশার টাকা জোগাড় করতে সেতুর রেলিং কেটে নিয়ে যাচ্ছে চোর চক্র। ফুটপাত ভেঙে চুরমার, নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই। প্রশাসনের নাকে ডগা দিয়ে সরকারি সম্পদ এভাবে ধ্বংস হচ্ছে।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :