কুরবানি পশুর চামড়ার দামে এবার ব্যাপক ধস নেমেছে। চারভাগের একভাগ দামও পাচ্ছেন না খুচরা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। এ জন্য তারা আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন।
তাদের দাবি, লবণযুক্ত চামড়ার মতো কাঁচা চামড়ারও দাম নির্ধারণ করে দেয়া উচিত। তবে আড়তদারদের মতে, পুঁজি সংকটের কারণে বাজারে তাদের সক্ষমতা কমে গেছে।
রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকায় কুরবানি পশুর চামড়া বেচাকেনার অন্যতম আড়তে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে এলেও বাজারে বেচাকেনায় তীব্র মন্দা দেখা দিয়েছে। কিছু চামড়া বিক্রি হলেও দাম একেবারেই কম। অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে চামড়া ফেরত নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই তারা কাঁচা চামড়ারও দাম সরকারিভাবে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
একজন চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, এইবার সর্বনিম্ন মানে দাম নাই, যে চাহিদা আছে সেটাও নাই। একেবারে সিন্ডিকেট করছে। সবাই ফেলে দিয়ে যাচ্ছে। মূল্য নির্ধারণ যেহেতু করা হয়, তাই তারা দাম পাবে। কিন্তু যারা নিয়ে আসে, বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলো যারা চামড়া সংগ্রহ করে, তারা তো ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।
তবে ব্যবসায়ীদের আরেক পক্ষ ভিন্ন মত দিচ্ছেন। তাদের দাবি, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম চামড়া বাজারে এসেছে। বেশিরভাগ চামড়া সরাসরি সাভারের হেমায়েতপুরে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তদারদের পুঁজি আটকে থাকায় তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতাও কমে গেছে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, পোস্তার মার্কেট তো আগের মতো এখন নেই। দ্বিতীয়ত আমরা হেমায়েতপুরে চলে যাচ্ছি। আমাদের যোগান ও সক্ষমতা অনেক কমে গেছে। মূল কারণ হলো আমাদের কাছে পর্যাপ্ত আর্থিক ব্যাকআপ নেই।
এদিকে সাভারের হরিণধরায় বিসিক চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শন করে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান রুগ্ন হয়ে পড়েছে এবং অনেক শিল্প কার্যত নিঃশেষ হয়ে গেছে।
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, যে পরিশোধনাগার প্রকল্প ছিল, তা পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর হয়নি। যারা এখানে এসেছে, তারা অনেকেই টিকে থাকতে পারেনি। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান মাঝপথে হারিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে সরকার চামড়া খাতে আবারও সুদিন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
কালের সমাজ/এসআর

