ঢাকা বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

দর্শনার্থীর ঢল,গুলশান লেকপাড়ে , শিশুদের হৈ-হুল্লোড়

বিনোদন ডেস্ক | মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম দর্শনার্থীর ঢল,গুলশান লেকপাড়ে , শিশুদের হৈ-হুল্লোড়

পরিবার, বন্ধু, স্বজনদের নিয়ে নগরবাসী ছুটে এসেছে একটু খোলা হাওয়ায় নিজেকে হারাতে আর নির্ভার সময় কাটাতে।
বিকেলে গুলশানের গুদারাঘাট এলাকার লেকপাড়ে গিয়ে দেখা গেল, লেকের পাশে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন অনেকে। এখানে আসা বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত পরিবার, ঈদের ছুটিতে তাই কোলাহলমুক্ত নগর দেখতে বেরিয়ে পড়েছেন তারা। ঈদের আমেজে লেকের পাশেই বসেছে বিভিন্ন ফুড স্টল, সেখান থেকেই অনেকে ফুচকা-চটপটি কিনে খাচ্ছেন।

শিশুদের দৌড়ঝাঁপ, কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের আড্ডা—সব মিলিয়ে হাতিরঝিল সংলগ্ন এই জায়গাটা যেন ছোটখাটো এক উৎসবমুখর মেলায় পরিণত হয়েছে।
শাহজাদপুর থেকে আসা শফিকুল ইসলাম তার পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে বিকেলের এই সময়টা কাটাতে এসেছেন এখানে। তিনি বললেন, “ঈদের দিনটা আত্মীয়দের বাসায় দাওয়াতে দাওয়াতে চলে যায়। বাচ্চারা তখন ঠিকমতো খেলতেই পারে না।

তাই আমরা প্রতি বছর ঈদের পরদিন বাইরে বের হই। এখানে এসে বাচ্চারাও আনন্দ পায় দৌড়াতে পারে, খেলতে পারে এই আনন্দটাই আলাদা।”
তার ছেলে রায়হান আর মেয়ে তাসনিয়া কাছেই অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠেছে।

একটু দূরে কয়েকজন তরুণ-তরুণী আইসক্রিম খাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে সোহেল নামে একজন জানান, তারা গাজীপুর থেকে এখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন।

বাড়ির পাশে হওয়ায় সুন্দর এই জায়গাতে বন্ধুদের নিয়ে ঈদের আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাতে চলে এসেছেন । 
“ঈদের পরদিন শহরটা একটু ফাঁকা লাগে, আবার এই জায়গাগুলোতে ভিড় হলেও একটা ফেস্টিভ মুড থাকে। তাই আমরা প্রতি বছরই এই দিনটা বাইরে কাটানোর চেষ্টা করি,” বললেন তিনি।

তবে শুধু পরিবার বা বন্ধুদের আড্ডা নয়, এই দিনটা অনেকের জন্য ছোটখাটো ব্যবসার সুযোগও তৈরি করে। লেকের পাশেই দেখা গেল আইসক্রিম, বেলুন, খেলনা বিক্রেতাদের ভিড়।

বেলুন বিক্রেতা আব্দুল কাদের বললেন, “ঈদের দিন তেমন বিক্রি হয় না, সবাই বাসায় থাকে। কিন্তু পরের দিন বাচ্চারা বেশি আসে, তখন বিক্রি ভালো হয়। আজ দুপুর থেকে প্রায় সব বেলুনই বিক্রি হয়ে গেছে।”

একইভাবে ফুচকার দোকানি সুমন জানালেন, “আজকে বিক্রি অনেক বেশি। ঈদের পরদিন মানুষ বাইরে খেতে পছন্দ করে। বিকেলের পর তো দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না।”

তবে এই আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেও কিছু সমস্যার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। খাওয়ার পর অনেকেই প্লাস্টিকের প্যাকেট, পানির বোতল, খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলে যাচ্ছেন খোলা জায়গাতেই।

গুলশান এলাকার এক স্থায়ী বাসিন্দা বলেন, সবাই যদি একটু সচেতন হতো, তাহলে জায়গাটা আরও সুন্দর থাকত।

নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসা পরিবারগুলো ভিড়ের কারণে বেশ সতর্ক থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি থেকে আসা আরিফ হোসেন বললেন, “ভিড়ের মধ্যে বাচ্চাদের সামলানো কঠিন হয়ে যায়। আমরা সবসময় হাত ধরে রাখি। একটু চোখের আড়াল হলেই চিন্তা হয়।”

তারপরও এসব ছোটখাটো অসুবিধাকে পেছনে ফেলে নগরবাসীর জন্য এ ধরনের অবসর এক ধরনের মুক্তির অনুভূতি নিয়ে আসে। ব্যস্ত নগর জীবনের চাপে যারা সারাবছর ক্লান্ত, তারা এই একদিন খোলা আকাশের নিচে বসে কিছুটা সময় কাটাতে চান নির্ভারভাবে।

ঈদের পরদিন তাই শুধু আরেকটি ছুটির দিন নয়, এটি শহরের মানুষের জন্য এক অনানুষ্ঠানিক উৎসব, যেখানে আনন্দ, ভিড়, ব্যবসা আর বাস্তবতার মিশেলে তৈরি হয় এক ভিন্ন নগরচিত্র।

 

 

 

কালের সমাজ/ কে.পি

Link copied!