শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের পদচারণায় পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভিড় করেছেন লাখো মানুষ।
দর্শনার্থীদের ঢল দেখে ধারণা করা হচ্ছে, আজকের উপস্থিতি গতকালের তুলনায় অনেক বেশি। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন শুধুমাত্র ঈদের ছুটিকে আনন্দঘন করে তুলতে।
বিশেষ করে শিশুদের উচ্ছ্বাস এবং প্রাণী দেখার আগ্রহ পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সবমিলিয়ে ঈদের তৃতীয় দিনে জাতীয় চিড়িয়াখানা হয়ে উঠেছে নগরবাসীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র, যেখানে মানুষের উপস্থিতি যেন স্রোতের মতো প্রবাহিত হচ্ছে।
ডেমরা থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন কলেজছাত্রী নাসরিন সুলতানা। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এবার ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয়নি।
তাই কয়েকজন বন্ধু মিলে এখানে ঘুরতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে লাখো মানুষের এক মিলনমেলা বসেছে।
চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়/ছবি: জি এম মুজিবুর
তিনি আরও বলেন, পশুপাখি দেখার পাশাপাশি এখানকার পরিবেশ, প্রকৃতি ও সবুজ গাছপালা দেখে মনে হচ্ছে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। সকাল ১১টা থেকে ঘুরছি, এখনো অনেক কিছু দেখা বাকি। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত থাকার ইচ্ছা আছে।
চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বাংলানিউজকে জানান, গতকাল যে পরিমাণ দর্শনার্থী প্রবেশ করেছিলেন, আজ তার চেয়ে বেশি হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিকেল ছয়টার পর সঠিক সংখ্যা জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, চিড়িয়াখানার ভেতরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সকাল থেকেই অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। আমাদের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ঈদের দিন দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ হাজার। ঈদের দ্বিতীয় দিনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৯০ হাজারে। আজকের উপস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, আগের দিনের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গাজীপুর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, রাস্তায় আসতে কোনো যানজট ছিল না। তবে ভেতরে ঢুকতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে, বিশেষ করে বাচ্চাদের নিয়ে।
তিনি আরও বলেন, খাঁচার সামনে গিয়ে পশুপাখি ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। এত বেশি ভিড় যে কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। আগে জানলে কয়েকদিন পরে আসতাম। এখন মনে হচ্ছে, ঠিকমতো ঘোরা সম্ভব হবে না।
জয়দেবপুর থেকে ঘুরতে আসা তাওসি জান্নাত বলেন, অনেক সকালে বাচ্চাদের নিয়ে বের হয়েছি। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করা হয়নি। বাইরে খাবারের দাম বেশি, তাই বাসা থেকে খাবার নিয়ে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে হাঁটতে হাঁটতে সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছি। বিকেল পর্যন্ত ঘোরার পরিকল্পনা আছে, তবে ভিড়ের কারণে কষ্ট হচ্ছে।
কালের সমাজ/কে.পি

