ঢাকা বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২
গণহত্যা দিবসের বাণীতে রাষ্ট্রপতি

জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক | মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা-বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসম সাহসী করে তোলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে। 

বুধবার ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই গণহত্যায় পুরো জাতি বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং এর অব্যবহিত পর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা-বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসীম সাহসী করে তোলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে। শুরু হয়ে যায় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস পর লাখ-লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়।’

তিনি বলেন, ‘ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনের কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানের নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মুক্তিকামী দেশবাসীর ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। মধ্যরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও তৎকালীন ইপিআর-এর অসংখ্য সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক, অগণিত নিরপরাধ মানুষ গণহত্যার নির্মম শিকার হন। আজকের এই দিনে আমি সব শহিদদের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি, তাদের অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর বর্বরতা, অন্যদিকে জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবগাঁথা ও বীরত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। হতে হবে অনুপ্রাণিত।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বহু বছর পর বহুকাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জনরায়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি ও পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন ছিল একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা- যেখানে বৈষম্য, বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচার থাকবে না। ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে শহিদদের এই চেতনা ও প্রত্যাশা পূরণে তিনি সমবেতভাবে কাজ করার এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

২৫ মার্চসহ দেশমাতৃকার সব শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!