ঢাকা বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কালের সমাজ ডেস্ক | মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নুরুল হক নুর জানান, কোরিয়া, জাপান, চীন, জার্মানির মতো দেশগুলোতে যারা যাবেন, তাদের এই সুবিধা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে যেন এই ঋণ দেওয়া হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ১০ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে দেবে, একজন ক্যাশ নিয়ে যাবে—সেটা না। শুধুমাত্র তারা যেন বিদেশে যেতে পারে, সেই ক্ষেত্রে এই সুবিধাটা দেওয়া হচ্ছে। অন্য কাজে এই টাকা কিন্তু খরচও করতে পারবে না। যেহেতু সাধারণ ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্যারান্টর কিংবা অনেক ধরনের জটিলতা আছে, আর আমাদের স্টুডেন্ট যারা যায়, তারা কিন্তু বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা করার উদ্দেশ্যে গেলেও ওই সমস্ত দেশে শেষ পর্যন্ত একটা কর্মসংস্থানের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে আমরা অনেকভাবে লাভবান হচ্ছি। একটা হচ্ছে, আমাদের দেশের একটা শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ওইখানে কর্মসংস্থানে যুক্ত হচ্ছে এবং আমরা রেমিট্যান্স পাচ্ছি। যে কারণে গ্যারান্টর ছাড়া এই ১০ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে সহায়তার সিদ্ধান্ত সরকার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দিয়েছিলেন। তার ফলোআপ হিসেবে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা যাতে ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সি জটিলতায় না পড়ে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী এই ঋণের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। তবে এই ঋণ নগদ আকারে হাতে দেওয়া হবে না; বরং টিউশন ফি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পেমেন্টের ক্ষেত্রে সরাসরি সাপোর্ট হিসেবে কাজ করা যাবে।


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে আমাদের শ্রমবাজার বা রেমিট্যান্সে দীর্ঘমেয়াদি কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সাময়িক কিছু সমস্যা হলেও যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক জনশক্তির চাহিদা তৈরি হবে। সেখানে নতুন কর্মসংস্থানের বড় সম্ভাবনা আমরা দেখছি।

শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট ও উচ্চ অভিবাসন ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিবাসন ব্যয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়ার কাজ করছে। এটি চূড়ান্ত হলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ হবে। মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের শ্রমবাজার দ্রুত চালুর বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

‘জাপান সেল’ গঠন 
জাপান ও ইউরোপে শ্রমবাজার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপানে ১ লাখ লোক পাঠানোর বিষয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দ্রুত বাস্তবায়নে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপের যেসব দেশের ভিসার জন্য ভারতে যেতে হয়, সেসব দেশের কনস্যুলার সেবা যাতে ঢাকা থেকেই নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশ বাংলাদেশে কনস্যুলার সেবা দেওয়া শুরু করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি কারিগরি কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইটের যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিমানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রবাসীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ মূলধারার গণমাধ্যমে মন্ত্রণালয়গুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

 

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!