মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভীড় জমেছে চকরিয়াস্থ ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে। ঈদের লম্বা ছুটির কারণে প্রতিবছরের চেয়ে এবারের ঈদের ছুটিতে লাখো দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থী ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে ভিড় করে বিলুপ্তপ্রায় পশু-পাখি দেখতে। ঈদের দিন বিকাল থেকে কম করে হলেও লাখো দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের দর্শনার্থীরা পার্কে ভিড় জমিয়েছে। স্থানীয় ছাড়াও দুরদুরান্ত থেকে প্রতিদিন আসছে দর্শনার্থীরা। সাফারি পার্ক জুড়ে রয়েছে বাঘ, সিংহ, উল্টো লেজী বানর, লাম চিতা, হনুমান, উল্লুক, কালো শিয়াল, জলহস্তী ওয়াইল্ডবিস্ট, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, সাম্বার হরিণ, প্যারা হরিণ, মিঠা পানির কুমির, ময়ূর, বনমোরগ, বন্য শূকর, তারকা কচ্ছপ, বানরসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণী।
পার্কে আসা দর্শনার্থীর বেশিরভাগই শিশু। তারা বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি মনের সুখে উপভোগ করছেন নান্দনিক বৃক্ষরাজির ফাঁকে ফাঁকে উন্মুক্ত বিচরণ করা হরিণ, খরগোশ, বানর। আবার অনেকের আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল বাঘ, সিংহ, জেব্রা জলহস্তী।

এছাড়াও পার্কের বেস্টনীর সামনে বিশাল এলাকা ঘিরে দর্শনার্থীদের জন্য তৈরী করা হয়েছে স্পর্ট। পিকনিক করার জন্য আলাদা জায়গা করা হয়েছে। ছোট বাচ্চাদের খেলার জন্য খেলনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এদিকে পার্কে ঘুরতে আসা বেশ কয়েকজন দর্শনার্থীর জানান, পার্কে নানা ধরনের পশু-পাখি দেখে বেশি মুগ্ধ হচ্ছে শিশুরা। বিশেষ করে বানরের সাথে দুষ্টুমিতে মেতেছে শিশুরা। হাতির পিঠেও চড়ছে অনেকে।
সাফারি পার্কে চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে এসেছে অন্তরা নামের এক মহিলা। সাথে স্বামী-সন্তানও এসেছেন পার্কে। তিনি বলেন, পার্কের বিভিন্ন পশু-পাখি দেখে শিশুরা খুব উৎফুল্ল। পার্কে অনেক নতুন নতুন লাগছে। পরিবেশটা খুব সুন্দর। এছাড়াও অনেক নতুন পশু-পাখির দেখা মিলেছে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর আলম বলেন, ঈদের দিন বিকেল থেকে দর্শনার্থীদের আগমন শুরু হয়েছে। যা অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক বেশি। দীর্ঘ ঈদের বন্ধ হওয়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি। দর্শীনার্থীর আগমন আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পার্কে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি বেষ্টনীতে নিরাপত্তা রক্ষী রয়েছে। তারা দর্শনার্থীদের সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রাখছে। ঈদের দিন থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিশু-কিশোরসহ দুই লক্ষাধিক দর্শনার্থী আগমন ঘটেছে। রবিবার পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আগমন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশও কাজ করছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই।
কালের সমাজ/এসআরস

