মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পাঁচ বছর পর সেনাসমর্থিত পার্লামেন্টে হওয়া ভোটে সহজে জিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে বসলেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। এর মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের করে নিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ভোটের ব্যালটে তাঁর নাম ছিল না, নির্বাচনী প্রচারের পোস্টারেও কোনো ছবি ছিল না। তবু গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে এক ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিলেন হ্লাইং।
বিবিসি জানায়, গতকাল শুক্রবার ৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যত শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ২০২১ সালে উৎখাত করার পর থেকে দেশটির শাসনক্ষমতায় আছেন তিনি।
জেনারেল থেকে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে হ্লাইংয়ের এই উত্থান গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে হওয়া এক বিতর্কিত নির্বাচনের ধারাবাহিকতা। ওই নির্বাচনে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও সমালোচক ও পশ্চিমা সরকারগুলো একে সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার একটি ‘অপচেষ্টা’ হিসেবেই দেখছে।
সেনাবাহিনীর কোটাভুক্ত আইনপ্রণেতা এবং ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) আধিপত্য থাকা পার্লামেন্টে ভোট গণনা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তাতে মিন অং হ্লাইংকে অনায়াসেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে দেখা যায়।

হ্লাইং জান্তাপ্রধান থেকে এখন এমন একটি প্রশাসনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, যেটিকে দেখলে বেসামরিক প্রশাসনের মতো মনে হয়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতাসীন জেনারেলকে যেন ক্ষমতায় ধরে রাখা যায়, সে কথা মাথায় রেখেই নির্বাচন সাজানো হয়েছে। তারা এই ক্ষমতার পরিবর্তনকে হ্লাইংয়ের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে তিনি নামমাত্র বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, পাশাপাশি গত ছয় দশকের অধিকাংশ সময় দেশ শাসন করা সামরিক বাহিনীর স্বার্থও রক্ষা করছেন।
মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক অং কিয়াও সো বলেন, তিনি দীর্ঘকাল ধরে সেনাপ্রধানের পদটি প্রেসিডেন্টের পদের সঙ্গে বিনিময় করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করছিলেন এবং তার স্বপ্ন এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
কালের সমাজ/এসআর

