ইরানের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হলেও দেশটির সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় কোনও প্রভাব পড়বে না বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘না, একেবারেই না। না, এটি যুদ্ধ। আমরা যুদ্ধে আছি।’ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ কার্যক্রমের বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পাশাপাশি তিনি ‘জটিল ও সক্রিয় সামরিক অভিযান’ নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ধরন সম্পর্কেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এদিকে কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান।
এ-১০ একটি মার্কিন স্থল-আক্রমণ বিমান, যা মূলত ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট মিশনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে এক ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে মার্কিন বাহিনী। ওই ব্যক্তি বর্তমানে ‘মার্কিন বাহিনীর হেফাজতে চিকিৎসা নিচ্ছেন’। তবে দ্বিতীয় ক্রুর ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির বিশ্লেষণে সিএনএন নিশ্চিত করেছে, ধ্বংসাবশেষটি এফ-১৫-এর সঙ্গে মিলে যায়। অন্যদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি প্রথম শুক্রবার এই বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করার খবর প্রকাশ করে। আইআরআইবি পাইলটদের সন্ধান অভিযানের সম্ভাব্য এলাকা চিহ্নিত করে একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। এদিকে ইরানি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের ছবিতে একটি লেজের অংশ দেখা গেছে, যা যুক্তরাজ্যের আরএএফ লেকেনহিথে অবস্থানরত ৪৯৪তম ফাইটার স্কোয়াড্রনের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক বাহিনী ও হোয়াইট হাউস এখনো পাইলটদের অবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। সূত্র: এনডিটিভি
কালের সমাজ/এসআর

