ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২
যাত্রীকল্যাণ সমিতি

মার্চে ৬১৬ সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত, আহত ১৫৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক | এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০১:২০ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ মার্চে ৬১৬ সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত, আহত ১৫৪৮

গত মার্চ মাসে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত, ১ হাজার ৫৪৮ জন আহত হয়েছে। এই মাসে রেলপথে ৪৫ টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত, ২২৯ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৌপথে ৯টি দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জন, আহত ১৯ জন ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৭৯৬ জন আহত হয়েছে। এ সময়ে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন নিহত, ১৯৭ জন আহত হয়েছে; যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, নিহতের ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ ও আহতের ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ। 

এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৬০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে ৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত হতাহতের ঘটনা আরও বেশ কয়েকগুণ বাড়তে পারে, যা সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়ায় তুলে আনা সম্ভব হয়নি। 

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৫৭ জন চালক, ৯০ জন পথচারী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬৮ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, ৭৮ জন নারী, ৮৬ জন শিশু, ৩ জন চিকিৎসক, ৪ জন সাংবাদিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ১৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে ৫ জন পুলিশ সদস্য, একজন আনসার সদস্য, একজন বিজিবি সদস্য, একজন্য ফায়ার সার্ভিস সদস্য, একজন চিকিৎসক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৫০ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু, ৬৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৪ জন শিক্ষক, একজন আইনজীবী, ৩ প্রকৌশলী ও ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৭৫টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক  ৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৪৬ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১ দশমিক ৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, শূন্য দশমিক ৩২ চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং শূন্য দশমিক  ৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!