ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত বিক্ষোভ মোকাবিলা করতে আরও এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চারপাশের ৪ কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লি মেট্রো ও রাজধানীতে প্রবেশকারী ট্রেন চলাচলে কড়াকড়ি নিয়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এই ইস্যুতে আদালত বলেছে, ‘মাছি মারতে কামান দাগা যায় না।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ উপকমিশনারের (ডিসিপি) কার্যালয় থেকে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএল-এর উদ্দেশ্যে জারি করা আদেশে বলা হয়, ‘৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চারপাশে ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
এর আগে গত জুলাইয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি’র বিক্ষোভ চলাকালেও টানা কয়েক দিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে আন্দোলনকারী জেন-জি তরুণ ও বিক্ষোভের চিত্র ধারণকারীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তবে পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল।
মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় যেসব এলাকা বা তার অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, গুরুদুয়ারা বাংলা সাহিব, বারাকাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড এবং জাংপুরা।
এর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল, রাজীব চক, নতুন দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক এবং কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নতুন দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল এমন ৬০টিরও বেশি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে দিল্লি মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলে, সবকিছু অচল করে দেয়া উচিত নয়। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় না।
আদালত উল্লেখ করে, ‘তরুণ থেকে প্রবীণ—সবাই যাতায়াত করেন। সাধারণ যাত্রীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনও কিছু সীমিত করা আর পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।’ সূত্র: এনডিটিভি
কালের সমাজ/এসআর

