ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ৯, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালতটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নেওয়া এ পদক্ষেপে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বিরোধ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন নাগরিকদের বিচার করার সুযোগ আইসিসিকে কখনোই দেবেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আদালতটিকে ‘বেআইনি ও বিপজ্জনক’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এর সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করা হবে এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত করা হবে।

আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান এ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দুর্বল করা। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে আদালতের তদন্ত, বিচার ও অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলেও জানান তিনি।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কারণে দীর্ঘদিন ধরে আদালতটির বিরোধিতা করে আসছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির একটি তদন্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে ওই তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়।

আইসিসির সদস্যদেশের সংখ্যা ১২৫। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর অন্য সদস্যদেশগুলো এ আদালতের সদস্য। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আদালতটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ইউরোপের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছে তারা।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সীমিত রাখতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে চারটি সাধারণ অনুমতিপত্র জারি করেছে। এর আওতায় আদালতটির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেন চালু রাখা যাবে।

রুবিও বলেন, আইসিসি ও এর সদস্যদেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের সমাধানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে তা কার্যকর না হলে নিষেধাজ্ঞার পরিধিতে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে। আদালতটির কার্যক্রমে লাগাম টানতে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদেরও পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে বলে জানান তিনি। সূত্র: রয়টার্স

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!