ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ইয়েমেনে সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতিদের ভয়াবহ হামলা, নিহত ৫৮

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম ইয়েমেনে সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতিদের ভয়াবহ হামলা, নিহত ৫৮

ইয়েমেনে সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে দেশটির ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এতে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক। ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণশিবিরে এই হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) হওয়া এ হামলায় আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রদেশটির গভর্নর আওয়াদ আল-ওয়াজির। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে এবং এর মধ্যেই ভয়াবহ এই হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

শাবওয়া প্রদেশ থেকে রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে আহত ব্যক্তিদের এবং রক্তাক্ত মরদেহ মাটিতে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গভর্নর ওয়াজির জানান, আল-আলম প্রশিক্ষণশিবিরে হুতিদের গোলাবর্ষণের পর আরও ১৪ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও ইরান সমর্থিত হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। গত সেপ্টেম্বরে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় অগ্রসর হওয়ার পর থেকে সংঘাত ব্যাপকভাবে বেড়েছে। লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত এই প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে হুতিরা সেখানে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। আর এতেই হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

ইয়েমেনের দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত শাবওয়া প্রদেশ জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ। এ প্রদেশেই রয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় শিল্প বিনিয়োগ বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনা। প্রদেশটির অবস্থান এডেন উপসাগরের তীরে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে প্রশিক্ষণশিবিরে হামলার কথা স্বীকার করেছেন। তার দাবি, শিবিরটি সৌদি বাহিনী পরিচালনা করত। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

এর আগে চলতি মাসে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তারা প্রণালির কাছাকাছি কিছু এলাকা পুনর্দখলও করেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকার হুতিবিরোধী বাহিনীর সর্বশেষ বড় শহুরে ঘাঁটি তাইজ অবরোধ করে রেখেছে বিদ্রোহীরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নিলে ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। এতে সরকার দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য হয়। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপের পর রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। পরে দুই পক্ষ ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

ইয়েমেন এমনিতেই ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবিলা করছে। দেশটিতে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!