ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

কর্মীদের যাতায়াতের কষ্ট দেখে মন গলল মালিকের, উপহার দিলেন বিএমডব্লিউ

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম কর্মীদের যাতায়াতের কষ্ট দেখে মন গলল মালিকের, উপহার দিলেন বিএমডব্লিউ

শীতের ঠান্ডা, বৃষ্টি কিংবা ঝোড়ো হাওয়া—প্রতিদিন এসব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই বৈদ্যুতিক স্কুটারে চেপে কাজে যেতেন তাঁরা। কর্মীদের এমন দুর্ভোগ দেখে আর চুপ থাকতে পারেননি তাঁদের মালিক। শেষ পর্যন্ত কয়েকজন কর্মীকে বৈঠকের কথা বলে নিয়ে গেলেন বিএমডব্লিউর শোরুমে। সেখানে অপেক্ষা করছিল এক অবিশ্বাস্য চমক—প্রত্যেকের জন্য নতুন গাড়ি! চীনের হেনান প্রদেশের এক রেস্তোরাঁমালিকের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চীনের হেনান প্রদেশের জিয়াওজুও শহরে গরুর মাংসের হটপট রেস্তোরাঁর একটি চেইন পরিচালনা করেন মা ইয়ানলি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি যান বিএমডব্লিউর একটি শোরুমে।

কর্মীদের জানানো হয়েছিল, সেখানে একটি বৈঠক হবে। কিন্তু শোরুমে পৌঁছানোর পর তাঁরা বুঝতে পারেন, বৈঠকের আড়ালে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে বিশেষ আয়োজন। প্রত্যেককে নতুন বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তাঁদের মালিক।

প্রতিটি গাড়ির দাম প্রায় ৩ লাখ চীনা ইউয়ান, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কর্মীদের চমকে দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই গাড়িগুলো কিনেছিলেন মা ইয়ানলি।

উপহার পাওয়া কর্মীদের একজন লি জিয়ে। এমন দামি উপহার পেয়ে নিজের আনন্দ লুকাতে পারেননি তিনি।

লি জিয়ে বলেন, ‘আমি ভীষণ আনন্দিত! আগে কখনো এমন কিছু পাওয়ার কথা ভাবতেও সাহস করিনি।’

তিনি জানান, বিএমডব্লিউর শোরুমে যাওয়ার পথে মা ইয়ানলি তাঁকে বলেছিলেন, একটি বড় খেলনা উপহার দেবেন। কিন্তু সেই ‘খেলনা’ যে একটি নতুন গাড়ি হতে যাচ্ছে, তা কল্পনাও করেননি তিনি।

কর্মীদের গাড়ি উপহার দেওয়ার পেছনে ছিল একটি ছোট ঘটনা। একদিন ঠান্ডার মধ্যে বৈদ্যুতিক স্কুটারে যাতায়াত করে কাজে ফেরার পর এক কর্মীর মুখ লাল হয়ে যেতে দেখেন মা ইয়ানলি।

ঘটনাটি তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। তিনি উপলব্ধি করেন, নিজে আরামদায়ক পরিবেশে যাতায়াত করতে পারলেও তাঁর কর্মীদের প্রতিদিন আবহাওয়ার প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তখনই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—তিনি নিজে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারলে কর্মীদের কেন এমন কষ্ট সহ্য করতে হবে?

কর্মীদের দৈনন্দিন এই দুর্ভোগ উপলব্ধি করেই তাঁদের জন্য গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মা ইয়ানলির বিশ্বাস, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু মালিকের একার অর্জন নয়। এর পেছনে কর্মীদের পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাই ব্যবসা ভালো করলে কর্মীদেরও সেই সাফল্যের সুফল পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। গাড়ি উপহার দেওয়ার মধ্য দিয়ে কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁদের জীবনযাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার চেষ্টা করেছেন এই রেস্তোরাঁমালিক।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই কর্মীদের প্রতি মা ইয়ানলির সহমর্মিতা ও উদারতার প্রশংসা করেছেন।

কারও কাছে এটি ব্যতিক্রমী উপহার দেওয়ার ঘটনা, আবার কারও কাছে কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত।

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি কর্মীদের কল্যাণ নিয়েও যে ভাবা সম্ভব, মা ইয়ানলির এই উদ্যোগ সেই আলোচনাকে সামনে এনেছে। এনডিটিভি

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!