ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশের লক্ষে সোমবার দেশটি জুড়ে বিশাল জনসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক এঙ্গেলাব চত্বরে স্থানীয় সময় বিকেল তিনটায় মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে, যার সমান্তরালে সারা দেশের প্রতিটি শহর ও জনপদে একযোগে সমাবেশ চলবে। খবর তাসনিম নিউজ।
৯ মার্চ সোমবার ভোরে ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) এক ঐতিহাসিক বৈঠকের পর আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনিকে ইসলামি বিপ্লবের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৮৯ সালে ইমাম খোমেনির ইন্তেকালের পর দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানকে নেতৃত্ব দেয়া আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির শাহাদাতের পর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পরিষদ।
মোজতবা খামেনি: নেপথ্য কারিগর থেকে ক্ষমতার শীর্ষেমোজতবা খামেনি: নেপথ্য কারিগর থেকে ক্ষমতার শীর্ষে
বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাদের বিবৃতিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বর্বরোচিত হামলায় ইমাম খামেনি এবং অন্যান্যদের শাহাদাতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পরিষদ জানিয়েছে, যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং শত্রুদের সরাসরি হুমকির তোয়াক্কা না করে তারা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনো সময়ক্ষেপণ করেনি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সূক্ষ্ম ও ব্যাপক পর্যালোচনার ভিত্তিতে ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত বৈঠকে পরিষদের সদস্যদের বিপুল ভোটে মোজতবা খামেনেইকে নির্বাচিত করা হয়। যুদ্ধকালীন এই সংকটময় মুহূর্তে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ইসলামি বিপ্লবের ধারাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
পিতার উত্তরসূরি ছেলে: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিপিতার উত্তরসূরি ছেলে: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সংস্থা। এই পরিষদের সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে আট বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। তাদের প্রধান কাজ হলো সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা এবং তার কার্যক্রম তদারকি করা।
গোটা ইরানে সমাবেশ শুধু একজন নতুন নেতার অভিষেক নয়, বরং চলমান যুদ্ধের আবহে ইরানের সংহতি এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোর প্রতি জনগণের আস্থার এক বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কালের সমাজ/এসআর

