ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

‘বৈসাবি’ নয়, এবার নিজস্ব নামে উৎসবে মাতবে পাহাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক | এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম ‘বৈসাবি’ নয়, এবার নিজস্ব নামে উৎসবে মাতবে পাহাড়

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর প্রধান সামাজিক উৎসব এবার আর সম্মিলিত ‘বৈসাবি’ নামে নয়, বরং প্রতিটি সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নামে উদযাপন করবে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান জানান, ‘বৈসাবি’ নামটিতে মূলত তিনটি সম্প্রদায়ের নামের আদ্যক্ষরের প্রতিনিধিত্ব ছিলো। এতে সব জাতিসত্তার পরিচয় ফুটে উঠতো না।

তিনি বলেন, যে কারণে এবার থেকে সেটি বাদ দিয়ে বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান ও চাংক্রান—এই নিজস্ব নামগুলোতেই ১২ এপ্রিল থেকে উৎসব উদযাপন শুরু হবে।

মন্ত্রী জানান, ১২ এপ্রিল সকালে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে। পাহাড়ের চিরাচরিত ঐতিহ্য মেনে ঢাকার রমনা পার্কের লেকের জলে ফুল ভাসানোর কর্মসূচিও পালন করা হবে।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর স্বকীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশে পাহাড়ি ও বাঙালির মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য, এখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

পার্বত্য অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পাহাড়ি জনগণের স্বকীয়তা রক্ষা করে তাদের উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত রাখা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রতি বছর বাংলা বছরের শেষ দুই দিন এবং নববর্ষের প্রথম দিনটি পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজে উদযাপিত হয়। এবার নিজস্ব নামে উৎসব উদযাপনের এই সিদ্ধান্ত পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে আরও সংহত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!