কর্মব্যস্ত জীবনে বাসা-বাড়ি সামলানো, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাবনা, অফিসের কাজসহ নানা চাপ থাকে। ফলে স্বল্প সময়ে যেমন অনেক কিছু ম্যানেজ করতে হয়, একইভাবে জীবন পরিচালনায়ও পরিবর্তন আনতে হয়। এ ক্ষেত্রে মানসিক যেমন প্রভাব পড়ে, একইসঙ্গে শরীরেও প্রভাব পড়ে। ফলশ্রুতিতে দেখা যায় অনেকেরই অল্প বয়সেই মাথার চুল সাদা হয়েছে বা পেকে গেছে।
এদিকে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন থাকেন। আগে ধারণা ছিল, কেবল বয়স্ক মানুষদের চুল পাকা থাকবে, অল্প বয়সে কেন? অন্যরা দেখলে হয়তো বয়স্ক ভাববে! সেই ধারণা থেকে মানুষ সরে এসে এখন বলেন, মানসিক চাপের কারণে চুল এমন হয়ে থাকে। কিন্তু আসলেই কি চুল পাকার সঙ্গে মানসিক চাপের সম্পর্ক রয়েছে? এ বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত অর্থেই মানসিক চাপ থেকে চুল পেকে যেতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে যদি কোনো মানুষ মানসিক চাপে থাকেন, তাহলে চুলের স্বাভাবিক রঙের জন্য দায়ী কোষগুলো নষ্ট হয়। চুলের আসল রঙ ক্রমশ সাদা হয়ে যায়। মানসিক চাপ অ্যাকটিভ স্ট্রেসগুলো বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি মেলানিনের ওপর প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে মেলানিন উৎপাদন কমে গেলে চুল ক্রমশ সাদা হতে থাকে।
২৫ থেকে ৩০ বছরের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে চুল পেকে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। চুল পেকে যাওয়ার পেছনে যদিও জিনগত কারণ রয়েছে, তবে বর্তমানে কাজের চাপ, ইঁদুর দৌড়ের জীবন, ডেডলাইন আর টার্গেটের কারণে ক্রমশ মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। ফলে অল্প বয়সে চুল সাদা হয়ে থাকে।
এ ক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা সচেতন অভ্যাসের মধ্য দিয়ে জীবন পরিচালনা করতে পারলে মানসিক চাপ কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। উপায়গুলো হলো-
প্রতিদিন যেভাবেই হোক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর সময় নিশ্চিত করতে হবে। গভীর রাত পর্যন্ত ফোন, ল্যাপটপ বা স্ক্রিনে সময় ব্যয় করা যাবে না। ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন সকালে অন্তত ৩০ মিনি হাঁটতে হবে ও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। অনলাইনে দীর্ঘক্ষণ থাকার অভ্যাস থাকলে তা বাদ দিতে হবে এবং কাজ শেষে যতটা সম্ভব স্বল্প সময় ফোন ব্যবহার করতে হবে।
কালের সমাজ/এসআর

