ভাত ভালো নাকি রুটি- এই প্রশ্ন আলোচনা বহুদিনের। কেউ মনে করেন রুটি বেশি স্বাস্থ্যকর, আবার অনেকের মতে ভাত শরীরের জন্য বেশি উপকারী। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসলে কোন খাবারটা ভালো হবে, তা নির্ভর করে একজন মানুষের জীবনযাপন, শরীরের চাহিদা এবং খাবার খাওয়ার ধরন কেমন তার ওপর।
বিশেষ করে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার বা ওড়িশার মানুষ নিয়মিত ভাত খান। অন্যদিকে পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশসহ কিছু অঞ্চলে রুটি বেশি জনপ্রিয়।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু ভাত বা রুটির নাম দেখে কোনো খাবারকে ভালো বা খারাপ বলা ঠিক নয়। বরং খাবারটি কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কী ধরনের চাল বা আটা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে আর কী খাওয়া হচ্ছে- এসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাত ও রুটি- দুটিতেই কার্বোহাইড্রেট থাকে। তবে অনেকেই মনে করেন রুটিতে কার্বোহাইড্রেট কম থাকায় এটি বেশি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, যদি রুটি ময়দা বা খুব বেশি পরিশোধিত আটা দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে সেটিও শরীরে দ্রুত সুগারের মাত্রা বাড়াতে পারে।
আবার, অতিরিক্ত পালিশ করা সাদা চালের তুলনায় কম পালিশ করা চাল বা ব্রাউন রাইস শরীরের জন্য ভালো।
কারণ এতে ফাইবার বেশি থাকে।
চিকিৎসক ও ডায়েটিশিয়ানরা সাধারণত ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি বা দই খাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়ে এবং শরীরে শর্করা ধীরে ধীরে মেশে। খিচুড়ি বা সবজি মিশিয়ে রান্না করা ভাতও তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়।
পুষ্টিবিদরা বলেন, বর্তমানে অনেক মানুষ অতিরিক্ত মিহি আটা বা ময়দা খাচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তবে সমস্যা শুধু ভাত বা রুটিতে নয়, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শর্করা এবং কম সবজি খাওয়াই মূল সমস্যা।
ভাতের সঙ্গে যদি বেশি সবজি খাওয়া হয়, তাহলে তা অনেক ক্ষেত্রে রুটির চেয়েও উপকারী হতে পারে। একইভাবে আটার মণ্ডের সঙ্গে শাকসবজি মিশিয়ে রুটি তৈরি করলে সেটিও ভালো খাবার হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করেন বা বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য ভাত উপকারী। কারণ ভাত দ্রুত শক্তি জোগায়। অন্যদিকে যারা কম চলাফেরা করেন বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য আটার রুটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে ফাইবার বেশি থাকায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। একজন মানুষের বয়স, কাজের ধরন ও শারীরিক সক্রিয়তার ওপর নির্ভর করে তার খাদ্যতালিকা ঠিক হওয়া উচিত। যাদের দীর্ঘসময় বসে বসে কাজ করতে হয়, তাদের অতিরিক্ত ভাত খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই তাদের জন্য রুটি বেশি উপযোগী হতে পারে।
পুষ্টিবিদরা বলেন, একটি সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বির মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। রুটি বা ভাতের পাশাপাশি ডাল, ডিম, সবজি বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও নিয়মিত খেতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও খাবারের ধরন গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত তাদের বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্রিজে রাখা ভাতে ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ তৈরি হয়, যা শরীরে ধীরে হজম হয় এবং হঠাৎ রক্তে শর্করা বাড়তে দেয় না।
খাদ্যাভ্যাস অনেকটা এলাকার সংস্কৃতি ও পরিবেশের ওপরও নির্ভর করে। ছোটবেলা থেকে মানুষ যে খাবারে অভ্যস্ত, সেটি সাধারণত সহজে হজম হয় এবং শরীরও সেটিকে ভালোভাবে গ্রহণ করে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার জন্য একই ধরনের খাদ্য নিয়ম প্রযোজ্য নয়। বরং নিজের শরীর, জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যের অবস্থা বুঝে খাবার নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কালের সমাজ/কে.পি

