এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য এক শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম ‘শাটডাউন’ ঘোষণা দিয়েছেন একদল শিক্ষক। সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারী ‘শিক্ষক সমাজ’।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে প্রক্টর এবং সিন্ডিকেট সদস্য এক শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট সমাধানে সিন্ডিকেট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় রোববার সাধারণ শিক্ষকদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক।
পরে শিক্ষক সমাজের সিদ্ধান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে জানিয়ে দেওয়া হয়; যা সোমবার থেকে কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
পদত্যাগ করেছেন- প্রক্টর কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং সিন্ডিকেট সদস্য ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মাদ তানভীর কায়ছার।
বিজ্ঞপ্তিতে করা হয়, ৩০ এপ্রিল উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সদস্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং ডিনদের ত্রিপক্ষীয় সভা হয়। সেই সভায় শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী চলমান সকল সংকটের সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ তৌফিক আলম হঠাৎ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নোটিস দিয়ে শনিবার বেলা ১১টায় এজেন্ডাবিহীন একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকেন।
সভায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সব সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে এবং অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে সংকটকে আরও গভীরে ঠেলে দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি সাধারণ সভায় উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে সোমবার থেকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত এবং চলমান ক্লাস ও পরীক্ষাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম শাটডাউন ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত হয়।
পদত্যাগ পত্র দেওয়া প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “কাজ করেও কোনো ফল হয় না। উপাচার্যের কার্যক্রমে সবাই হতাশ। উপাচার্য সবার হক নষ্ট করছেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে উপাচার্যকে বারবার অনুরোধের পরও কোনও কাজ না হওয়ায় পদত্যাগ করছি।”
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “প্রক্টরের পদত্যাগ পত্র পেয়েছি। পদত্যাগ পত্র উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। সিন্ডিকেট সদস্য মুহাম্মাদ তানভীর কায়ছার পদত্যাগ করেছেন বলে শুনেছি। তবে তার কোনো পদত্যাগ পত্র পাইনি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “সিন্ডিকেট সদস্য তানভীর কায়ছার অসুস্থ। তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাবেন। তাই তিনি পদত্যাগ পত্র দিয়েছেন। আমি তাকে বলেছি, চিকিৎসা শেষে দেশে এসে দায়িত্ব পালন করতে চাইলে কন্টিনিউ করবেন। যদি না চান তাহলে পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করা হবে। তবে প্রক্টরের কোনো পদত্যাগ পত্র পাইনি।”
“শনিবারের সিন্ডিকেট সভায় সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত হয় আগামী দুই মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি প্রণয়ন করে পদোন্নতি নেবেন তারা। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ আমার বোধগম্য নয়”, বলেন উপাচার্য।
শিক্ষকরা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পর ৪৫ দিনের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত করার জন্য বোর্ড সভা শুরু করা হয়। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ড সভার পরপরই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে সুপারিশ অনুমোদন দেওয়ার কথা থাকলেও উপাচার্য সেটিও বিলম্বিত করেন। একই সঙ্গে সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত করার বোর্ড সভাও আয়োজন করা হয়নি।
কালের সমাজ/কে.পি

