পিরোজপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিসিয়াল রিপোর্ট তৈরি ও জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই সহকর্মীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে অফিস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উভয়কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি অফিসিয়াল রিপোর্ট প্রস্তুত ও দাখিলের বিষয়কে কেন্দ্র করে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসি এমও) মনি মোহন মিস্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সহকারী শামসুন্নাহার ওরফে চিনুর মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে শামসুন্নাহারের চশমা পড়ে যায় এবং তিনি চোখের পাশে সামান্য আঘাত পান বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে মনি মোহন মিস্ত্রী বলেন, অফিসিয়াল একটি বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় শামসুন্নাহার তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি চেয়ার থেকে উঠে এসে তার শার্টের কলার ধরেন। আত্মরক্ষার্থে তাকে সরিয়ে দিতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
অন্যদিকে শামসুন্নাহার দাবি করেন, অফিসিয়াল কাজ নিয়ে বাকবিতণ্ডার সময় মনি মোহন তাকে চড় মারতে উদ্যত হন। তখন তিনি আত্মরক্ষার্থে তার শার্ট ধরেন। পরে মনি মোহন তাকে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পিরোজপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, একটি অফিসিয়াল রিপোর্টকে কেন্দ্র করে দুই সহকর্মীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে অফিস কক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় তিনি জরুরি সভায় ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর সদর থানাকে অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় তারা ফিরে যায়। পরে উভয়ের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং অফিসিয়ালি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিরোজপুর সদর থানার (ওসি) মো. মাহামুদ হাসান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি শান্ত থাকায় পুলিশ ফিরে আসে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
কালের সমাজ/কে.পি

