২০০৯ সালে নাইজেরিয়ার মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফুটবল বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। সেই ঐতিহাসিক যুব বিশ্বকাপ জয়ের দুই প্রধান নায়ক রিকার্ডো রদ্রিগেজ ও গ্রানিট জাকা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এবার বড়দের বিশ্বকাপেও সুইশদের প্রধান ভরসা সেই দুই অভিজ্ঞ কাণ্ডারি। এই দুই তারকাকে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফুটবল পরাশক্তিদের চ্যালেঞ্জ জানাতে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন।
রদ্রিগেজ ও অধিনায়ক জাকা—উভয়ের জন্যই এটি হতে যাচ্ছে সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ। অভিজ্ঞ এই দ্বৈতরথীর পাশাপাশি মানুয়েল আকাঞ্জি, ব্রিল এমবোলো, গ্রেগর কোবেল ও ডেনিস জাকারিয়ার মতো চেনা মুখগুলোকে নিয়েই মিশন সাজিয়েছেন কোচ ইয়াকিন।
ঘোষিত স্কোয়াডে বড় চমক হিসেবে ডাক পেয়েছেন তরুণ তুর্কি জোহান মানজাম্বি। ইউরোপা লিগের ফাইনালে ওঠা জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্গের হয়ে চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্ম করা মানজাম্বি এই স্কোয়াডের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। অন্যদিকে, ঘরোয়া লিগে দারুণ খেলা গোলকিপার মার্ভিন কেলারকে দলের একমাত্র নতুন মুখ হিসেবে দলে ডেকেছেন কোচ।
বিশ্বকাপের গত তিনটি আসরেই দারুণ খেলে গ্রুপ পর্ব পার করেছিল সুইজারল্যান্ড। কিন্তু প্রতিবারই তাদের বিদায় নিতে হয়েছে নক-আউট পর্বের প্রথম ধাপ অর্থাৎ ‘শেষ ১৬’ থেকে। বিশ্বকাপে সুইশদের সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে তারা শেষবার খেলেছিল সুদূর ১৯৫৪ সালে। এবার জাকা-আকাঞ্জিদের লক্ষ্য থাকবে দীর্ঘ ৭২ বছরের সেই খরা কাটিয়ে শেষ আটের টিকিট কাটা।
আগামী ১৩ জুন কাতারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে রেড ক্রসরা। এরপর গ্রুপ পর্বের বাকি দুটি ম্যাচে ১৭ জুন বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা এবং ২৪ জুন কানাডার মুখোমুখি হবে তারা।
এক নজরে সুইজারল্যান্ডের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড-
গোলকিপার: গ্রেগর কোবেল, মার্ভিন কেলার, ইভন এমভোগো।
ডিফেন্ডার: মানুয়েল আকাঞ্জি, রিকার্দো রদ্রিগেজ, অরেল আমেন্দা, এরে কোমার্ট, নিকো এলভেডি, লুকা জাকুয়েজ, মিরো মুহেইম, সিলভান ভিডমার।
মিডফিল্ডার: গ্রানিট জাকা (অধিনায়ক), ডেনিস জাকারিয়া, মিশেল এবিশার, ক্রিস্টিয়ান ফাসনাক্ট, রেমো ফ্রয়লার, সেড্রিক ইত্তেন, আরডন জাশারি, ফ্যাবিয়ান রিডার, জিব্রিল সো।
ফরোয়ার্ড: ব্রিল এমবোলো, জেকি আমদুনি, জোহান মানজাম্বি, ড্যান এনডয়, নোয়া ওকাফোর, রুবেন ভারগাস।
কালের সমাজ/এসআর

