ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কচুয়ায় প্রবীণ ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র বাওয়ালীর স্মরণে শোক সভা অনুষ্ঠিত

জেলা প্রতিনিধি, চাঁদপুর | মে ২০, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম কচুয়ায় প্রবীণ ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র বাওয়ালীর স্মরণে শোক সভা অনুষ্ঠিত

হার্টে দুইটি ছিদ্র নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে শিশু রমজানের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মানব সেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চাঁদপুরের  পুলিশ সুপার রবিউল হাসান।

দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় থমকে গেছে আট বছরের শিশু রমজান গাজীর জীবন। জন্মের মাত্র সাত মাস পর চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার হৃদপিণ্ডে রয়েছে দুইটি ছিদ্র। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা নিয়ে বেঁচে থাকা এই শিশুকে দ্রুত অপারেশন করানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন দিনমজুর বাবা-মা।
 

জানা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শরিফ গাজী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে তার সংসার। অভাব-অনটনের মধ্যেই জন্ম নেয় ছেলে রমজান গাজী। জন্মের সাত মাসের মাথায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, জন্মগতভাবে তার হার্টে দুইটি ছিদ্র রয়েছে।
 

চিকিৎসকরা দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে এখনো সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারেননি বাবা-মা। পরিবারের সদস্যরা জানান, দিন দিন শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করতে পারে না রমজান। সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠে সে।
রমজানের বাবা শরিফ গাজী বলেন, “আমি গরিব মানুষ, রাজমিস্ত্রির কাজ করি। ছেলের চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করছি। কিন্তু অপারেশনের খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব না। সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাই।”
 

রমজানের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দিন দিন আমার ছেলের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো আমার সন্তানটা বাঁচবে।”"এদিকে শিশুটিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো: রবিউল হাসান। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ সুপারের সহযোগিতা পেয়ে বর্তমানে ঢাকা হৃদরোগ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। তার মাথায় পুঁজ জমে গেছে বলে জানায় চিকিৎসক। 

দ্রুত মাথার পুঁজ অপসারণ করতে হবে। তারপর হার্টের অপারেশনের দিকে হাটবেন চিকিৎসকরা। "চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত অপারেশন করানো না গেলে শিশুটির জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। অভাবের দেয়ালে আটকে আছে একটি শিশুর জীবন। মানবিক সহায়তা আর একটু ভালোবাসাই হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে ছোট্ট রমজানের মুখের হাসি।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!