ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শি জিনপিং

‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি রুখে দেবে চীন-রাশিয়া

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ২০, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি রুখে দেবে চীন-রাশিয়া

বর্তমান বিশ্বে শান্তি নেই। আধিপত্যবাদ এখন বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে ‘ল অব দ্য জাঙ্গল’ বা ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতিতে ফিরিয়ে নেয়ার মতো বিপজ্জনক প্রতিযোগিতার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। চীন সফররত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২০ মে) পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্বজুড়ে অশান্ত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শি বলেন, চীন ও রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সমন্বয় বা সহযোগিতা আরও জোরদার করা উচিত।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের সময় ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপের’ কথা উল্লেখ করেছিলেন শি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছিলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত থুসিডাইডিস ট্র্যাপ এড়িয়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে?’ পরে নিজেই উল্লেখ করেন, এর উত্তর দুই নেতাকেই নির্ধারণ করতে হবে।

উদীয়মান শক্তি যখন কোনও ক্ষমতাসীন শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে, তখন যে সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয় তাকেই থুসিডাইডিস ট্র্যাপ বলা হয়।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, বড় দেশ হিসেবে চীন ও রাশিয়াকে অবশ্যই নিজেদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। তাদের উচিত জাতিসংঘের কর্তৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা। একই সঙ্গে যেকোনও ধরনের একতরফা বলপ্রয়োগের চেষ্টা রুখে দেয়া উচিত।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় শি জিনপিং সামরিকীকরণের চেষ্টার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলকে অস্বীকার করার যেকোনো পদক্ষেপ কিংবা সামরিকীকরণের যে চেষ্টা চলছে, রাশিয়া ও চীনের উচিত সেটিরও বিরোধিতা করা।

বৈশ্বিক রাজনীতির প্রায় সব ইস্যুতে চীন ও রাশিয়ার ঐকমত্য থাকলেও দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে কিছুটা টানাপড়েন লক্ষ্য করা গেছে। কারণ পুতিনের এই সফরে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে একটি গ্যাসের পাইপলাইন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, দুই নেতার আলোচনায় এই পাইপলাইন নিয়ে আপাতত কোনও অগ্রগতি হয়নি। নতুন পাইপলাইনটি হলে চীনে দ্বিগুণ গ্যাস রপ্তানি করতে পারত রাশিয়া। বিশ্লেষকদের ধারণা, পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২ নামের এই পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ হতে পারে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!