চীনের বেইজিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পুতিন শি জিনপিংকে আবারও ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক এখন ‘অভূতপূর্ব উচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হতে না হতেই বেইজিংয়ে গেলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে বহরকারী বিমানটি বেইজিংয়ে অবতরণ করে। এসময় পুতিনকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
চলতি বছর এটিই রুশ প্রেসিডেন্টের প্রথম বিদেশ সফর।
বুধবার (২০ মে) সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। পুতিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই বৈঠকের অপেক্ষায় ছিলেন। জবাবে শি জিনপিং বলেন, উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে দুই দেশকে একে অপরকে সহায়তা করা উচিত।
পুতিনও বলেন, চীনের জন্য রাশিয়া একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে থাকবে।
চীনে এটি পুতিনের ২৫তম রাষ্ট্রীয় সফর। দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার রাতে বেইজিং পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
বুধবারের বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি, তবে উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে, দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর পুতিন দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। এরপর বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে, যা কৌশলগত সহযোগিতা আরো বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করতে পারে বলে জানা গেছে। বৈঠকের পর পুতিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া তিনি এক চীনা প্রকৌশলীর সঙ্গেও দেখা করবেন, যিনি তার শৈশবে পরিচিত ছিলেন। দিনের কর্মসূচিতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফটো প্রদর্শনী, সন্ধ্যায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং চায়ের আড্ডাও রয়েছে পুতিনের।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর চীন-রাশিয়া বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিশেষ করে জ্বালানি খাতে আরো শক্তিশালী হয়েছে। চীন রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে। এবার গ্যাস আমদানিও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘ বিরতির পর ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ পাইপলাইনের নির্মাণ শেষের পথে।
এই পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়া বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস চীনকে সরবরাহ করতে পারবে, যা চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা আরো বাড়াবে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা এখনও অগ্রগতি পায়নি, ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। চীন এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে আসছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: বিবিসি
কালের সমাজ/এসআর

