প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দিনে নানা আয়োজন, সেমিনার, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, র্যালি কিংবা সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার নানা বার্তা প্রচারিত হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিশ্ব পরিবেশ দিবস কি শুধুই একটি আনুষ্ঠানিক দিবস? কেবল একটি দিন গাছ লাগিয়ে, কয়েকটি বক্তৃতা দিয়ে বা সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ার করলেই কি পরিবেশ রক্ষা সম্ভব? বাস্তবতা বলছে, পরিবেশ দিবস কেবল একটি ক্যালেন্ডারভিত্তিক অনুষ্ঠান নয়, এটি মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক, ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার এক বৈশ্বিক অঙ্গীকার।
বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ, বন উজাড়, নদী দূষণ, প্লাস্টিকের আগ্রাসন, জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত সতর্ক করছে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, হিমবাহ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশ জলবায়ু সংকটের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা করছে। তাই বিশ্ব পরিবেশ দিবস কেবল একটি প্রতীকী দিবস নয়, বরং এটি মানবসভ্যতার টিকে থাকার প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানব পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৭৪ সাল থেকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি বা UNEP এই দিবসটির নেতৃত্ব দেয়। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা, পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা এবং সরকার, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা। কারণ পরিবেশ ধ্বংস মানে কেবল প্রকৃতির ক্ষতি নয়, বরং মানবজীবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়া।আজকের পৃথিবী এক গভীর পরিবেশ সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন, অতিভোগবাদ ও অবাধ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
বিশ্বের বড় বড় শহরগুলো ভয়াবহ বায়ুদূষণের শিকার। নদী-খাল দূষিত হয়ে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। বনভূমি উজাড়ের কারণে বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে।বাংলাদেশের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে পরিচিত। নদীগুলো শিল্পবর্জ্যে দূষিত হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বৃক্ষনিধনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং গ্রীষ্মকালে তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নদীভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে পরিবেশ রক্ষা এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি টিকে থাকার লড়াই।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর বহু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হলো, এসব কর্মসূচির কতটুকু বাস্তব প্রভাব পড়ে? অনেক সময় দেখা যায়, দিবসটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। একদিন গাছ লাগিয়ে পরদিন সেটির আর খোঁজ রাখা হয় না। সভা-সেমিনারে পরিবেশ নিয়ে জোরালো বক্তব্য দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চলতেই থাকে।
একদিকে পরিবেশ রক্ষার কথা বলা হয়, অন্যদিকে নির্বিচারে পাহাড় কাটা, নদী দখল, বন উজাড় ও প্লাস্টিক ব্যবহার অব্যাহত থাকে। উন্নয়নের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করা হয়। পরিবেশ রক্ষার নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় না। এ অবস্থায় বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য হারিয়ে যায়। দিবসটি তখন কেবল ফটোসেশন, ব্যানার ও বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অথচ পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজন বছরজুড়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ, দায়িত্বশীল আচরণ এবং কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন।
পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার নয়; প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিবেশ দূষণের সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন আচরণ সরাসরি সম্পর্কিত।আমরা যদি অপ্রয়োজনে প্লাস্টিক ব্যবহার কমাই, পানি ও বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করি, গাছ লাগাই, বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করি এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন করি, তবে বড় পরিবর্তন সম্ভব। একটি পরিবার সচেতন হলে একটি সমাজ সচেতন হয়, আর সমাজ সচেতন হলে পুরো দেশ উপকৃত হয়। বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম পরিবেশ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তারা পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বৃক্ষরোপণ, নদী পরিষ্কার ও প্লাস্টিকবিরোধী আন্দোলনে কাজ করছে। এই উদ্যোগগুলোকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা সবচেয়ে বড় শক্তি। অনেক মানুষ এখনো পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নয়। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবেশ শিক্ষা আরও গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শিশুদের পরিবেশবান্ধব আচরণ শেখাতে হবে। শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা দিতে হবে। যেমন বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ ও প্রকৃতি রক্ষায় হাতে-কলমে কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। গণমাধ্যমও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশবিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও প্রচারণা মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই উন্নয়ন যদি পরিবেশ ধ্বংস করে, তবে তা কখনোই টেকসই হতে পারে না। আজ বিশ্বের বহু দেশ টেকসই উন্নয়নের ধারণাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থাৎ এমন উন্নয়ন, যা বর্তমানের চাহিদা পূরণ করবে কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি করবে না। বাংলাদেশেও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সময় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। নদী, বন ও কৃষিজমি ধ্বংস করে উন্নয়ন করলে দীর্ঘমেয়াদে তার ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে। তাই সবুজ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় পরিবেশগত সমস্যা হলো প্লাস্টিক দূষণ। প্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না। নদী, সমুদ্র, মাটি ও খাদ্যচক্রে এটি ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। সামুদ্রিক প্রাণী প্লাস্টিক খেয়ে মারা যাচ্ছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে। বাংলাদেশেও প্লাস্টিক দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাজার, রাস্তা, খাল-বিল সর্বত্র প্লাস্টিকের বর্জ্য ছড়িয়ে রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তাই একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো এখন সময়ের দাবি। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আলোচনায় প্লাস্টিক দূষণ প্রায়ই উঠে আসে। কিন্তু কেবল আলোচনা নয়, কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। বিকল্প পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। যদিও বিশ্বে কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম, তবুও এর ভয়াবহ প্রভাব বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে।উপকূলীয় অঞ্চলগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কৃষি উৎপাদন কমছে। অতিরিক্ত গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে। জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিবেশ রক্ষা মানেই দেশের অর্থনীতি, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও মানুষের জীবন রক্ষা করা।
প্রকৃতি রক্ষা শুধু বৈজ্ঞানিক বা সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বও বটে। ইসলাম ধর্মে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অযথা গাছ কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যান্য ধর্মেও প্রকৃতি রক্ষাকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ প্রকৃতি ধ্বংস মানে মানবসভ্যতার ক্ষতি। তাই পরিবেশ রক্ষায় ধর্মীয় মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ভবিষ্যৎ পৃথিবীর দায়িত্ব বর্তাবে আজকের তরুণদের ওপর। তাই পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তরুণরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে। তারা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক পরিবেশ ক্লাব গঠন করা যেতে পারে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। বাস্তব কাজ করতে হবে। যেমন গাছ লাগানো, নদী পরিষ্কার অভিযান, প্লাস্টিকবিরোধী প্রচারণা, পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার ইত্যাদি।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়, আর তা হলো মানুষ ও প্রকৃতি পরস্পরের পরিপূরক। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে মানুষ কখনো টিকে থাকতে পারে না। তাই পরিবেশ রক্ষা মানে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করা।এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, প্রতিটি নাগরিকের। বছরে একটি দিন নয়, প্রতিদিনই হতে হবে পরিবেশ রক্ষার দিন। ঘর থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত সব পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব নীতি ও আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস কোনো আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি মানবসভ্যতার টিকে থাকার এক বৈশ্বিক আহ্বান। কেবল একদিনের কর্মসূচি দিয়ে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সচেতনতা, দায়িত্ববোধ, কার্যকর নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। আজ পৃথিবী যে ভয়াবহ পরিবেশ সংকটের মুখোমুখি, তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান নিশ্চিত করা। পরিবেশ রক্ষা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়া। তাই বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে কেবল একটি দিবস হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে পরিণত করতে হবে প্রতিদিনের চর্চা, সামাজিক আন্দোলন এবং মানবিক দায়িত্বে।
আমাদের প্রত্যেককে আজ এই প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, আমরা প্রকৃতিকে ভালোবাসব, পরিবেশ দূষণ রোধে সচেষ্ট হব এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলব। তাহলেই বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে। আসুন পরিবেশ বাঁচাই, নিজে বাঁচি, দেশকে বাঁচাই।
লেখকঃ ফিরোজ আলম মিলন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

