পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসে নবম ভারত মহাসাগর সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের এই সময়ে দেশগুলোর উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা চাপে রয়েছে।
এ অবস্থায় ‘কলেক্টিভ অ্যাকশন’ বা সম্মিলিত উদ্যোগকে নতুন করে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলের শাসন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত মহাসাগরকে ঘিরে একটি ‘শেয়ারড কোঅপারেটিভ ভিশন’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং এ ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনকে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ভারত মহাসাগর এই অঞ্চলের সব মানুষের, যারা এর ওপর নির্ভরশীল, এর সঙ্গে যুক্ত এবং এটিকে ঘিরে স্বপ্ন দেখে। এই নীল জলরাশি যেন বিভাজন নয়, বরং ঐক্য, টেকসই উন্নয়ন ও প্রেরণার উৎস হয়।
খলিলুর রহমান জানান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিশ্বাস করে এবং সার্ক পুনরুজ্জীবনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একইসঙ্গে বর্তমান বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগে জোর দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই), বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ, এই অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে হবে।
বক্তব্যে তিনি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের চ্যালেঞ্জও তুলে ধরেন। এ অঞ্চল এখনো কম গবেষিত এবং অধিকাংশ মানুষ প্রথাগত মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিও বাড়ছে।
তিনি বলেন, আলোচনাকে কার্যকর করতে হলে এমন উদ্যোগ নিতে হবে, যা বাস্তবে অর্থনীতি ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
কালের সমাজ/এসআর

