ঢাকা শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চোখেমুখে ব্যাকুলতা নিয়ে ঈদের দ্বিতীয় দিনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ২৯, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম চোখেমুখে ব্যাকুলতা নিয়ে ঈদের দ্বিতীয় দিনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়
ঈদের দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন নগরীর বাস টার্মিনালগুলো ঘরমুখো মানুষের ভিড়

ঈদের আনন্দ মানেই পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা, প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর তৃপ্তি। তাই ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, কাউন্টার ও লঞ্চঘাটে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের দীর্ঘ সারি। কারও হাতে মাংসের পোটলা, কারও কাঁধে ব্যাগ, আবার কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করছেন বাড়ির পথে রওনা হওয়ার জন্য। তাদের চোখেমুখে ছিল এক ধরনের ব্যাকুলতা—যেন দ্রুত আপনজনদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার অদম্য তাগিদ।

অনেকেই চাকরিজীবী। কর্মস্থলের দায়িত্ব ও ছুটির সীমাবদ্ধতার কারণে ঈদের আগে বাড়ি ফিরতে পারেননি। কেউ অফিসের মালিকের কোরবানির কাজে পরিবারের সদস্যের মতো অংশ নিয়েছেন, কেউ আবার দায়িত্ব শেষ করে পেয়েছেন কিছু কোরবানির মাংস। সেই মাংস যত্ন করে পরিবারের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন তারা। তাদের কাছে এটি শুধু খাবার নয়, ভালোবাসা ও দায়িত্বের প্রতীক।

বাস কাউন্টারগুলোতে অপেক্ষমাণ মানুষের মুখে ক্লান্তি থাকলেও মনে ছিল আনন্দের উচ্ছ্বাস। কেউ বলছিলেন, “মা অপেক্ষা করছেন”, কেউ বলছিলেন, “ছোট ছেলেটা প্রতিদিন ফোন দিয়ে জানতে চাচ্ছে কখন বাড়ি যাব।” দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়া, সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা কিংবা বৃদ্ধ মায়ের মুখে হাসি দেখার আকাঙ্ক্ষাই যেন তাদের এই কষ্টকর যাত্রাকে সহজ করে তুলেছে।

এবার সড়কে যানজট তুলনামূলক কম থাকায় যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন মোড় থেকেও মানুষ বাসে উঠছেন। অন্যদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। নদীপথে বাড়ি ফেরা মানুষের চোখেও ছিল একই রকম আনন্দ আর অপেক্ষার ছাপ।

ঈদের প্রকৃত আনন্দ কেবল নতুন পোশাক বা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় নয়; বরং পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সেই আবেগঘন মুহূর্তেই লুকিয়ে থাকে। তাই শত ব্যস্ততা, কষ্ট আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও মানুষ ছুটে চলে নিজের শেকড়ের টানে, প্রিয়জনের ভালোবাসার কাছে।

Link copied!