ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
ইয়াও ওয়েন

বাংলাদেশের অভ‍্যন্তরীণ ইস্যুতে চীন কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ২, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম বাংলাদেশের অভ‍্যন্তরীণ ইস্যুতে চীন কারো  হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না

বাংলাদেশের অভ‍্যন্তরীণ ইস্যুতে চীন কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করবে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অনুরোধে তিস্তা প্রকল্পে চীন কাজ করবে, অন‍্য কেনো ইস্যু আমাদের ভাবনার বিষয় নয়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর অত্যন্ত সফল। এ সফরে দুদেশের কৌশলগত পর্যায়ে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।

তিস্তা ইস্যুতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠক প্রসঙ্গে কথা বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নয়নে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা একসঙ্গে আলোচনায় বসেন। সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে যৌথ স্বার্থ নিয়ে সৌহাদ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।

দুই নেতার মধ্যে (শি জিনপিং ও তারেক রহমান) টু প্লাস টু আলোচনা ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিশ্বস্ততা জোরদার হয়েছে ।

 তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের স্বার্থে নিজেদের মত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে চায়না সমর্থন করে।

ইয়াও ওয়েন জানান, টেকসই তিস্তা মহাপরিকল্পনা করতে এর বৈজ্ঞানিক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চায়না এর ওপর জোর দিচ্ছে। এ বিষয়ে চায়না বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

অতীতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে চাইনিজ কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা হলেও এবার দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এ প্রকল্প এবং বাংলাদেশের নদী ব্যস্থাপনায় কারিগরি সহযোগিতা করতে চীনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিশ্রুতি এসেছে।

এসময় ব্রিকসে বাংলাদেশের সদস্যপদ সমর্থনে চীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানান দেশটির রাষ্ট্রদূত।

ঢাকার নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর থেকে সংশ্লিষ্ট তিন দেশই (চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ) অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

চীন মনে করে, এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর আঞ্চলিক ট্রানজিট হাব হিসেবে বিকশিত হতে পারে।

চীন এই করিডোরে অন্য কোনো দেশের, বিশেষ করে ভারতের অংশগ্রহণে কোনো বিরোধিতা করবে না। পূর্বে এটি বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবেই ধারণা করা হয়েছিল।

প্রস্তাবিত করিডোরটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর অংশ। বাংলাদেশ সরকার এই অর্থনৈতিক প্রস্তাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই নেওয়া হবে।

করিডোরের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনায় রাখছে বিশেষজ্ঞরা।

কালের সমাজ/ এএইচ বি 

Link copied!