ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই

বিশেষ প্রতিনিধি | জুলাই ২, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে   প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই
ছবি সংগ্রহ

দেশের সাড়ে ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

জাতীয়করণ করা প্রাথমিক শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা পদোন্নতি সংক্রান্ত বিরোধে বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে আদালত ২০১৩ সালের সংশ্লিষ্ট বিধিমালার () ধারা বহাল রাখে।

ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

রায়ের ফলে জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ শিক্ষকের নিচে নির্ধারিত থাকবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম হলো।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে যে আইনি জটিলতা ছিল, এই রায়ের মাধ্যমে তা দূর হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে বিদ্যালয় পরিচালনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং পাঠদান কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

মামলার সূত্রপাত হয় জাতীয়করণ করা শিক্ষক সরাসরি সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা পদোন্নতি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে। ২০১৩ সালেরঅধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা’-এর () ধারায় জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের অবস্থান সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ শিক্ষকের নিচে নির্ধারণ করা হয়।

বিধান চ্যালেঞ্জ করে ৩৮৩ জন শিক্ষক হাই কোর্টে রিট করেন। ২০১৯ সালে হাই কোর্ট ওই ধারার সংশ্লিষ্ট অংশকে অবৈধ ঘোষণা করলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ২০২২ সালে আপিল বিভাগ হাই কোর্টের রায় স্থগিত করে এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।

গত ১৮ জুন চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ হাই কোর্টের রায় বাতিল করে এবং ২০১৩ সালের বিধিমালার () ধারা বহাল রাখে। এর ফলে জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।

কালের সমাজ/এএইচবি  

Link copied!