ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাস্তা নিয়ে বিরোধে শিক্ষকের বাড়িতে লুটপাট, ‎মামলা রেকর্ডভুক্ত করেনি থানা

জেলা প্রতিনিধি,গাইবান্ধা | আগস্ট ১২, ২০২৬, ০২:২৩ পিএম রাস্তা নিয়ে বিরোধে শিক্ষকের বাড়িতে লুটপাট, ‎মামলা রেকর্ডভুক্ত করেনি থানা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বজরা কঞ্চিবাড়িতে বাড়ির উঠোন দিয়ে রাস্তা না দেয়ায় স্কুল শিক্ষক মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাংচুর করা হয়েছে। ধুবনী কঞ্চিবাড়ির হামিদা খাতুন মাধ্যমিক এসএসসি ভোকেশনাল স্কুলের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট হামিদুল ইসলাম ডাকুয়ার নেতৃত্বে এই হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলেও তা রেকর্ডভুক্ত করা হয়নি। গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে বুধবার আয়োজিত  এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

‎সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া জানান, তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার লেংগাবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর বাড়ি সুন্দরগঞ্জের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে। ‎তিনি অভিযোগ করেন তার পাশের বাড়ির আশরাফুল আলম ভুঁইয়া ও তার শরিকরা ওই শিক্ষকের বাড়ির দক্ষিণ পাশ দিয়ে  পারিবারিক রাস্তা নির্মাণ করে চলাচল করছে। কিন্তু তারা বর্তমানে জোরপূর্বক শিক্ষক মোশাররফ হোসেনের বাড়ির ভেতরে উঠোন দিয়ে চলাচল শুরু করে। এতে বাড়ির বিশেষ করে মহিলাদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বিঘিœত হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ও পরে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে গত ৯ আগস্ট ওই ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট হামিদুল ইসলামের নেতৃত্বে রোজি বেগম, ইদ্রিস আলী ভুইয়া রাজা, রুহুল আমিন ভুইয়া সুজা, সাইফুল ইসলাম ভুইয়া বাবুলসহ তাদের লোকজন শিক্ষক মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে। তারা ঘরে ঢুকে দেড় লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসময় জাতীয় সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহযোগিতা চাইলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ওইদিনই সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলেও তা রেকর্ডভুক্ত না করে ওসি উল্টো ওই শিক্ষককে হেনস্থা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও গত ২০ এপ্রিল বাড়িতে ঢুকে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। থানার ওসি, পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শালিসে শিক্ষক মোশাররফ হোসেনের বাড়ির দক্ষিণ দিক দিয়ে চলাচলের রাস্তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাস্তার আড়াই শতক জমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ও জমির মূল্য বাবদ ৩ লাখ টাকা এবং বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভাঙার ১ লাখ টাকা ওই শিক্ষককে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তারা বাড়িতে এসে ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে উল্টো রাস্তার আড়াই শতক জমি তাদের ব্যক্তি নামে চায়। শুধু তাই নয়, প্রাচীর ভাঙার ১ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ১৫ হাজার টাকা মোশাররফ হোসেনকে দেয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া এসব ঘটনার প্রতিকার ও তার অভিযোগ থানায় রেকর্ডভুক্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই মো. মকবুল হোসেন ভুঁইয়া, প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান মিয়া, সাইদুর রহমান ও আঙ্গুর মিয়া।  

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!