বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শমিত সোমকে নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে এখন জোর গুঞ্জন। কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্যাভালরি এফসির সঙ্গে তিন বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ‘নিউ ইয়র্ক কসমস’-এ নাম লেখাতে যাচ্ছেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা।
নিউ ইয়র্ক কসমসের ক্লাবটির নাম বিশ্ব ফুটবলের সোনালী ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে এই ক্লাবের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছিলেন ফুটবলের রাজা পেলে। তার পথ ধরেই পরবর্তীতে কসমসে যোগ দিয়েছিলেন জার্মান কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার।
বর্তমানে আমেরিকান ফুটবলের তৃতীয় স্তরে খেলা এই ক্লাবেই শমিতের যোগদানের খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। যদিও এখন পর্যন্ত শমিত বা ক্লাব কর্তৃপক্ষ কেউই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে নেট দুনিয়ায় এই সম্ভাব্য ট্রান্সফার নিয়ে উত্তেজনার কমতি নেই।
শমিতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথচলাটা বেশ বৈচিত্র্যময়। ক্যারিয়ারের শুরুতে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার জাতীয় দলের জার্সিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তবে গত বছর বাবা-মায়ের মাতৃভূমির টানে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এই মিডফিল্ডার। লাল-সবুজের জার্সিতে সুযোগ পাওয়ার পর খুব দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন তিনি।
২০২৫ সালের জুনে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের হয়ে তার অভিষেক হয়। অভিষেকের চার মাসের মাথায় হংকংয়ের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে লাল-সবুজের জার্সিতে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি আদায় করে নেন তিনি। দেশের জার্সিতে খেলার পর থেকেই তার ক্যারিয়ার এবং পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি নজর কেড়েছে।
গত জানুয়ারিতে দীর্ঘ তিন বছরের বর্ণিল সম্পর্কের পর ক্যাভালরি এফসি ছাড়েন শমিত। তারপর থেকেই ফ্রি এজেন্ট বা মুক্ত খেলোয়াড় হিসেবে নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন তিনি। নিউ ইয়র্ক কসমসের মতো ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত ক্লাবে যদি তার এই যাত্রা সত্যি হয়, তবে তা শুধু শমিতের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থে বাংলাদেশি ফুটবলের ভাবমূর্তির জন্যও এক দারুণ প্রাপ্তি হবে।
পেলের স্মৃতিধন্য আঙিনায় লাল-সবুজের জার্সির এই কান্ডারী শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখান কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।
কালের সমাজ/এসআর

