ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ‘হেয় করার জন্য সংঘবদ্ধ ও চলমান প্রচেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। শনিবার (৮ আগস্ট) দেয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, ইনফান্তিনোকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘মিথ্যা’। খবর বিবিসির।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফিফার বর্তমান সভাপতি ইনফান্তিনো উয়েফার মহাসচিব থাকাকালে এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং ওই নারীকে পরে উয়েফা থেকে আর্থিক সুবিধাসহ চাকরি দেন। তবে ফিফার এক মুখপাত্র টেলিগ্রাফকে জানান, ইনফান্তিনো অভিযোগগুলো ‘দৃঢ়ভাবে অস্বীকার’ করেছেন এবং এগুলো ‘সম্পূর্ণ অসত্য’।সংবাদ প্রতিবেদন
এরপর ফিফার পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভিত্তিহীন দাবি এবং স্পষ্টতই মিথ্যা তথ্য’কে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘অনুমান ও ইঙ্গিতকে কখনোই তথ্য হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।’
ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে উঠেছে ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনা। সেটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে গেলেও এ নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। উয়েফা জানিয়েছে, তারা ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়েছে। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেসও শুক্রবার ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
এদিকে, ফিফার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বয়কট করার হুমকি এখনো প্রত্যাহার করেনি উয়েফা। এফএফই পরিকল্পনাটি ভবিষ্যতে আবারও ফিরিয়ে আনা হবে না; এমন নিশ্চয়তাও তারা এখনো পায়নি বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় সংস্থাটি।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে ইউরোপেই। তবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ফুটবল কর্তৃপক্ষের বড় অংশ এখনো তার পাশে রয়েছে। মেক্সিকো ফুটবল ফেডারেশন আঞ্চলিক সংস্থা কনকাকাফের অবস্থান থেকে আলাদা হয়ে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের অবস্থানের সঙ্গেও তারা একমত। কনমেবল জানিয়েছে, ফিফার ২১১ সদস্য দেশের অংশগ্রহণে ভোট ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরানোর যেকোনো প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করবে। অন্যদিকে, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (কাফ) ৫৪টি সদস্য দেশও ইনফান্তিনোকে সর্বসম্মতভাবে সমর্থন করছে।
গত বুধবার মরক্কোর রাবাতে ফিফার ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইনফান্তিনো। এর আগে ফিফার পক্ষ থেকে ইনফান্তিনো ও মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রমের নামে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।
সেখানে এফএফই পরিকল্পনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হলেও ফিফা স্পষ্ট করে জানায়, সংস্থার ‘সততা, সুশাসন ও যথাযথ প্রক্রিয়া’ নিয়ে আর কোনো আক্রমণ তারা মেনে নেবে না। শনিবার রাতে প্রকাশিত সর্বশেষ বিবৃতিতেও একই ধরনের কঠোর অবস্থান নেয় ফিফা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরিবর্তন অনিবার্যভাবেই প্রতিষ্ঠিত স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করে। তবে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মতবিরোধ ফিফার সভাপতির গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট কিংবা তিনি যে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেটিকে হেয় করার প্রচেষ্টাকে বৈধতা দিতে পারে না।’
ফিফা আরও জানায়, ‘বৈধ ও দায়িত্বশীল পর্যালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে পর্যালোচনার নামে তথ্য বিকৃত করা, ভিত্তিহীন অভিযোগকে বাড়িয়ে তোলা কিংবা ফিফার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
সংস্থাটির ভাষ্য, কোনো প্রতিবেদন ভুল বা বিভ্রান্তিকর হলে ফিফা তার বিরুদ্ধে ‘সরাসরি ও জোরালোভাবে’ অবস্থান নেবে।
কালের সমাজ/এসআর

