ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

পরীক্ষাব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনে AQA Global-এর সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি

‎শারমীন সুলতানা মিতু, গাজীপুর | অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম পরীক্ষাব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনে AQA Global-এর সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে যুক্তরাজ্যের AQA Global-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ সহযোগিতার মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ধাপ ডিজিটাল করা, মূল্যায়নের নির্ভুলতা ও দক্ষতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে ভাইস-চ্যান্সেলরের দপ্তরের কনফারেন্স রুমে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের AQA Global-এর এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর হলো।

চুক্তির আওতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পরিচালনা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন করা হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা, দ্রুততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এত বড় পরিসরে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছ হোক। একই সঙ্গে যেখানে মানবিক ভুলের সুযোগ রয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটিও কমিয়ে আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নত মূল্যায়ন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। AQA Global-এর সঙ্গে এই সহযোগিতা সেই সুযোগ তৈরি করেছে। এটি শুধু একটি চুক্তি নয়; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, “আমাদের কাজকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (BNQF) এবং আউটকাম বেজড এডুকেশন (OBE) কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। শুরুতে ছোট পরিসরে বিভিন্ন পার্টনার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে কাজটি করা গেলে বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। এর সুফল শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও এটি একটি মডেল হতে পারে।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, “শুরুতেই বড় পরিসরে না গিয়ে একটি কোর্স বা নির্দিষ্ট কার্যক্রম পাইলট আকারে করা যায় কি না, সেটি আমরা দেখছি। AQA Global-এর সহযোগিতায় ছোট পরিসরের এই উদ্যোগ সফল হলে পরবর্তী সময়ে বড় পরিসরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ঝুঁকি কম থাকবে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।”

AQA Global-এর ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের পরিচালক শন ক্রোলি বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত। এত বড় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে আমাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তবতা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, “এই সহযোগিতার বিষয়টি শুধু পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের অর্জিত যোগ্যতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সুযোগও এখানে রয়েছে। অক্সফোর্ড AQA-এর অ্যাক্রেডিটেশন শিক্ষার্থীদের সনদে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তা দেশে ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে।”

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার, প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া AQA Global-এর পক্ষে বিজনেস ডেভেলপমেন্টের লিড ইন্টারন্যাশনাল সৈয়দ শাহ, বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহিন রেজাসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও AQA Global-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
কালের সমাজ/কে.পি

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!