ঢাকা বুধবার, ০৪ মার্চ, ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
সংকটের অজুহাতে কাটছে গ্রাহকের পকেট

মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকার নীরব লুট

মোহাম্মদ আলী সুমন | জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০২:০২ পিএম মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকার নীরব লুট

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটের অজুহাতে গ্রাহকের পকেট থেকে অতিরিক্ত আড়াই হাজার কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা।

রাজধানীর শনির আখড়া পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা এমএ আকরাম জানান, আগে যেখানে ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, কখনো কখনো ১ হাজার ৫০০ টাকা ছাড়াত না, শনির আখড়া এলাকার বাজারগুলোতে বহু খোঁজা খুঁজির পর ২৩০০ টাকা দিয়ে ১২ কেজির একটা সিলিন্ডার কিনেছি। সেক্ষেত্রে দোকানদারের কথামত বাড়তি দাম দিতে রাজি না হলে আমার কাছে তো বিক্রি করবে না! এসব লাগামহীন প্রতারণার কারণে আমাদের মত মানুষের ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ, কিন্তু আয় নেই , তাছাড়া আমাদের মত অসহায়দের এমন চাঁপা কষ্ট বুঝার মত কেউ নেই!

এলপি গ্যাসের দাম বাড়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতেও জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ। রাজধানীর শনির আখড়া এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, মাত্র ১৫ দিনে তার এলপি গ্যাস খাতে বাড়তি ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। তিনি বলেন, খাবারের দাম বাড়াতে না পারায় ব্যবসা চালাতে গিয়ে লোকসানে পড়তে হচ্ছে।

শনির আখড়া এলাকার আরেক চা-দোকানদার মো: রফিকুল ইসলাম জানান সামান্য চা-বিক্রি করে সংসার চালাই, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম অনেক বেশি, তাছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পুরোপুরি লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেশি। একই সময়ে ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, দেশে বাজারে থাকা প্রায় সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের মধ্যে বর্তমানে মাসে দুই দফায় রিফিল হচ্ছে প্রায় সোয়া কোটি সিলিন্ডার। সে হিসাবে প্রতি সিলিন্ডারে গড়ে এক হাজার টাকা করে বাড়তি আদায় হলে মাসে গ্রাহকের পকেট থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, এলপি গ্যাসের তথাকথিত সংকটকে পুঁজি করে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পেছনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির ঘাটতি রয়েছে।

এলপি গ্যাস নিয়ে চলমান এই নজিরবিহীন নৈরাজ্যের মধ্যেও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে দিনশেষে অতিরিক্ত দামের বোঝা বহন করতে হচ্ছে নিরুপায় সাধারণ গ্রাহকদেরই।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!