ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

নতুন সিইও পেল অ্যাপল, কত বেতন পাবেন টিম কুকের উত্তরসূরি?

কালের সমাজ ডেস্ক | সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম নতুন সিইও পেল অ্যাপল, কত বেতন পাবেন টিম কুকের উত্তরসূরি?

নতুন সিইও পেল অ্যাপল। টিম কুকের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন জন টার্নাস। প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর বার্ষিক বেতনের পরিমাণও।

নতুন দায়িত্ব পাওয়া কুকের জন্যও নতুন পারিশ্রমিকের প্যাকেজ ঘোষণা করেছে অ্যাপল। এই অর্থবর্ষে অ্যাপলের নতুন সিইও-র সম্ভাব্য মোট আয় বা ‘টার্গেট কম্পেনসেশন’ ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি ৮০ লক্ষ ডলার।  অন্যদিকে, এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে টিম কুক পাবেন প্রায় চার কোটি ৭০ লক্ষ ডলার।

মঙ্গলবার ‘ইউএস সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’-এর (এসইসি) কাছে জমা দেওয়া নথিতে টার্নাস ও কুকের নতুন পারিশ্রমিক বিষয়টি প্রকাশ করেছে অ্যাপল। অর্থাৎ, যেদিন সিইও হিসেবে টার্নাস তার দায়িত্ব পালন শুরু করলেন, ঠিক সে দিনই এই নথিটি জমা দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে।

অ্যাপলে টার্নাস এবং কুক, উভয়েরই বেতন চোখধাঁধানো। টার্নাসের পারিশ্রমিকের মধ্যে রয়েছে বছরে ৩০ লক্ষ ডলারের বেতন এবং আগামী অর্থবর্ষের জন্য ৫.৫ কোটি ডলার মূল্যের ‘স্টক অ্যাওয়ার্ড’ (শেয়ার থেকে আসা লভ্যাংশ)। কুকের প্যাকেজে রয়েছে বার্ষিক ২০ লক্ষ ডলারের বেতন এবং ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৪.৫ কোটি ডলার মূল্যের ‘স্টক অ্যাওয়ার্ড’।

তবে সিইও থাকাকালীন কুকের বেতন ছিল ৩০ লক্ষ ডলার। অ্যাপলের সাবেক এই সিইও গত বছর প্রায় ৭.৪৩ কোটি ডলার আয় করেছিলেন। অর্থাৎ, অ্যাপলের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি তুলনামূলকভাবে কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, টার্নাস ও কুককে দেওয়া স্টক অ্যাওয়ার্ডের মূল্য অ্যাপলের শেয়ারের দামের ওঠানামার সঙ্গে বদলাতে পারে। জমা দেওয়া নথিতে নতুন কোনও নগদ বোনাসের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

Tim Cook‍‍`s Apple legacy ends as John Ternus takes over

অ্যাপল জানিয়েছে, টার্নাস ২০২৬ অর্থবর্ষে (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত) প্রায় ২৫ লক্ষ ডলার মূল্যের আনুপাতিক হারে ‘রেস্ট্রিক্টেড স্টক ইউনিট’ বা আরএসইউ পাবেন। ২০২৭ অর্থবর্ষে বড় আকারের ইকুইটি পুরস্কারের মধ্যে ৭৫ শতাংশ হবে কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক আরএসইউ, যা এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য সংস্থার তুলনায় অ্যাপলের অংশীদারদের মোট আয়ের উপর নির্ভরশীল হবে। বাকি ২৫ শতাংশ হবে সময়-ভিত্তিক আরএসইউ, যা চার বছর ধরে সমান অর্ধবার্ষিক কিস্তিতে দেওয়া হবে।

সহজ কথায়, টার্নাসের শেয়ার সংক্রান্ত আমদানির বড় অংশ নির্ভর করবে আমেরিকার অন্যান্য বড় তালিকাভুক্ত সংস্থার তুলনায় অ্যাপল বাজারে কেমন পারফর্ম করছে তার উপর। আর বাকি অংশটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তুলে দেওয়া হবে নতুন সিইও-র হাতে। যদিও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে টার্নাস কত বেতন পেতেন, তা প্রকাশ করেনি অ্যাপল। তবে মনে করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটিতে তার আগের পদে তিনি বছরে প্রায় আড়াই কোটি ডলার (প্রায় ২৩৭ কোটি টাকা) আয় করতেন।

অন্যদিকে, কুকের ২০২৭ অর্থবর্ষের ইকুইটি পুরস্কারের অর্ধেক হবে কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক এবং বাকি অর্ধেক হবে সময়-ভিত্তিক আরএসইউ, যা চার বছর ধরে তাঁকে দেওয়া হবে। ঠিক যেমনটা পাবেন টার্নাস। কুকের ক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক পুরস্কারের অংশটি টার্নাসের তুলনায় কম।

Apple‍‍`s new CEO, John Ternus, takes over from Tim Cook after 15 years

নথিতে আরও বলা হয়েছে, যদি টিম কুক শেয়ার প্রদানের তারিখের প্রথম বছরেই বা তার পরে অবসর নেন, তা হলেও তিনি শেয়ারগুলো পাবেন। তবে তা কেবল নির্ধারিত তারিখেই হস্তান্তরিত হবে। সাধারণত কোনও সিইও সংস্থা ছেড়ে গেলে তাদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা হয়, কিন্তু কুকের ক্ষেত্রে তেমনটা হবে না। ২০২৫ সালে সিইও হিসেবে কুকের বার্ষিক বেতন ছিল ৭.৪৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে ছিল ৩০ লক্ষ ডলারের বেতন, ১.২ কোটি ডলার কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক নগদ পুরস্কার এবং ৫.৭৫ কোটি ডলারের শেয়ারের আয়।

কুকের হাত থেকে টার্নাসের হাতে সিইও-র দায়িত্ব হস্তান্তর এই শতাব্দীতে অ্যাপলের সিইও পদে পরিবর্তনের দ্বিতীয় ঘটনা। ২০১১ সালের অগস্টে অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের জায়গায় সিইও হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন কুক। সিইও হিসেবে তার ১৫ বছরের মেয়াদে কুক অ্যাপলের বাজারমূল্য ৩৫০০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে চার লক্ষ ডলারেরও বেশিতে নিয়ে গিয়েছেন।

Link copied!