বিশ্বকাপ তিন ম্যাচে চার গোল করে গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস। রয়েছেন দারুণ ছন্দেও। জাপানের বিপক্ষে সোমবার নকআউট রাউন্ডে বাঁচা-মরার ম্যাচে নামার আগে নিজের দাদীর জন্য বিশ্বকাপটি জিততে চান বলে জানালেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড ভিনি জুনিয়র রবিবার ডোমিঙ্গাঁও কোম হাক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয়ের পর এই সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়েছিল। ওই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা দুটি গোল করেন।
সাক্ষাৎকারে নিজের দাদি ডোনা নিলজা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ভিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি তিনি জানান, ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্নই এখন তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
ম্যাচের পর ভিনির দাদি ডোনা নিলজা তার জন্য একটি বার্তা পাঠান। সেই বার্তা শুনে লুসিয়ানো হাকের পাশে বসেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি ভিনি। তিনি জানান, ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি দাদির সঙ্গেই থাকতেন।
তিনি আমার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ মানুষদের একজন। বাবা সব সময় দূরে থাকতেন, তাই মা, ভাইবোন আর দাদির সঙ্গেই বড় হয়েছি। আমাদের বাড়ি ছোট ছিল, তাই অনেক দিন দাদির সঙ্গেই ঘুমিয়েছি। তিনি আমার জীবনে অসাধারণ প্রভাব ফেলেছেন। আমি জানি, এক সময় সবাইকে চলে যেতে হয়।
তাই তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমি উপভোগ করি। আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য তারা সবকিছু করেছেন। আজ তাকে হাসিখুশি দেখতে পাওয়ার চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ভিনি তিন ম্যাচে চার গোল করেছেন। ২০০২ সালে ব্রাজিলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের সময় তিনি ছিলেন শিশু। আগামী ১২ জুলাই তার ২৬তম জন্মদিন, আর বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে এর সাত দিন পর।
‘এটি এমন একটি প্রজন্ম, যারা ব্রাজিলকে আবার বিশ্বের শীর্ষে ফিরিয়ে নিতে কঠোর পরিশ্রম করছে। ষষ্ঠ তারকাটি আসতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। এই দলের অনেকেই সর্বশেষ কোপা আমেরিকায় খেলেছে। আনচেলত্তি আমাদের স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং আশা দিয়েছেন। নেইমার, ক্যাসেমিরো, অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো ও মারকুইনহোসের মতো অভিজ্ঞরা আমাদের তরুণদের অনেক সাহস জোগান। আমার বয়স মাত্র ২৫ কিন্তু আমাদের দলে এনদ্রিক, রায়ানের মতো দারুণ প্রতিভাবান তরুণরাও উঠে আসছে।
মাঠের ভেতর-বাইরে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়েও কথা বলেন ভিনি। তার উদ্যোগে প্রণীত ভিনি জুনিয়র আইন’ অনুযায়ী, বর্ণবাদী অঙ্গভঙ্গি করলে খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। এই বিশ্বকাপে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে প্যারাগুয়ের আলমিরন এমন আচরণের কারণে লাল কার্ড দেখেছিলেন।
ভিনির ভাষায়, ‘মাঠের বাইরের এই অর্জনগুলো আমার কাছে মাঠের সাফল্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে আমি আরও অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। পরিবর্তন ধীরে হলেও হচ্ছে, আর আমি চাই পরবর্তী প্রজন্ম যেন এই কষ্টের মুখোমুখি না হয়। আমার সাত বছরের একটি ছোট ভাই আছে।
আমি চাই সে যেন কখনো বর্ণবাদের শিকার না হয়। মাঠে বড় কিছু করতে চাই; কিন্তু একই সঙ্গে সেই সব কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে চাই, যাদের কণ্ঠস্বর আমার মতো শক্তিশালী নয়।
কালের সমাজ/এএইচবি

