ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
সংসদে অর্থমন্ত্রী

ঋণনির্ভরতা থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিনিধি | জুন ২৯, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম ঋণনির্ভরতা থেকে বিনিয়োগনির্ভর  অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ
ছবি সংগ্রহ

বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থ পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি আর্থিক খাতকে সংস্কার করে একটি শক্তিশালী টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

 সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট শুধু বার্ষিক আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কাঠামোগত সংস্কার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার একটি রূপরেখা। তিনি জানান, বর্তমান সরকাররিকভারি, রেস্টোরেশন রিকন্সট্রাকশনএই ৩আর কৌশল অনুসরণ করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিচ্ছে।

 প্রস্তাবিত বাজেটে দশমিক শতাংশ মূল্যস্ফীতি দশমিক শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, মুদ্রানীতি রাজস্ব নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 রাজস্ব আহরণে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, এনবিআর প্রথমবারের মতো লাখ কোটি টাকার রাজস্ব মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ভ্যাট ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

 অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত এবং পরিচালন ব্যয় ৬৬ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে বিদেশে বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মে ২০২৬ পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং ১৩টি দেশে আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।

 পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর ছাড়, জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত রাখা, লভ্যাংশ কর কমানো এবং মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সীমা প্রত্যাহারের মতো একাধিক প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনার পাশাপাশি বিনিয়োগ মূল্যায়নে ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত সুরক্ষাকে চারটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

 কালের সমাজ/এএইচবি 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!