উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রামসহ উত্তরজনপদের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদের ভুরুঙ্গামারী পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে মৌসুমি বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার হলেও পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৮৩ মিটার। এছাড়া ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম সদর সেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে ৭৩ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হলেও সবকটি নদীতেই পানির ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বানের পানি ঢুকে পড়ায় তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, চীনাবাদাম, মরিচ, পটলসহ বিভিন্ন আবাদি ফসলের বিস্তীর্ণ ক্ষেত। কৃষকেরা জানান, দীর্ঘ সময় পানি স্থায়ী হলে অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে মৌসুমজুড়ে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে। নতুন করে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ায় অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

ছবি সংগ্রহ
বন্যার কারণে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও কর্মস্থলে যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সংকট দেখা দেওয়ায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে খেটে খাওয়া মানুষের।
ফলে অনেক পরিবার খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হতে পারে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পানি আরও বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের সমাজ/এএইচবি

