২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই শেষ হলেও সেই ম্যাচের নানা প্রসঙ্গ এখনও আলোচনায়। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার মাত্র এক সপ্তাহ পরই অবসরের ঘোষণা দিয়ে চমকে দেওয়া স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন সেই ম্যাচ এবং লিওনেল মেসির সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়ে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৪৬ বছর বয়সী ভিনচিচ জানান, ফিফা যখন তাকে বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তখন তিনি একই সঙ্গে বিস্মিত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন, ‘প্রথমে খবরটি শুনে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পারি, এটি আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সম্মান।’
ফাইনাল চলাকালে মেসি ও ভিনচিচের মধ্যে কয়েক দফা কথোপকথন ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তবে সেই আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে রাজি হননি স্লোভেনিয়ান এই রেফারি।
ভিনচিচ বলেন,‘সেই কথোপকথন মাঠেই থাকুক। তবে এটুকু বলতে পারি, মেসি পুরো ম্যাচে দারুণ ক্রীড়াসুলভ আচরণ করেছে।’ তিনি স্পষ্ট করেন, ম্যাচ চলাকালে তাদের মধ্যে কোনো বড় ধরনের উত্তেজনা বা বিরোধ তৈরি হয়নি।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে লাল কার্ড দেখানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছিল ভিনচিচকে। তবে তার মতে, একজন রেফারির সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ম্যাচ শেষে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক না হওয়া, ‘আমাদের রেফারিং কৌশল সঠিক ছিল বলেই মনে করি। ম্যাচ শেষে যদি রেফারিকে নিয়ে আলোচনা না হয়, সেটাই সবচেয়ে বড় সন্তুষ্টি।’
তিনি এই কৃতিত্ব নিজের পাশাপাশি সহকারী রেফারি টোমাজ ক্লাঞ্চনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচিচকেও দেন। ভিনচিচ জানান, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তিনি ও তার দল কয়েক দিন ধরে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের খেলার ধরন, আচরণ এবং ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন।
তার ভাষায়, ‘আমরা খেলোয়াড়দের বৈশিষ্ট্য, খেলা থেমে গেলে তাদের প্রতিক্রিয়া এবং খেলার ধরন নিয়ে গবেষণা করি। তবে প্রতিটি ম্যাচের নিজস্ব গল্প থাকে, তাই সবকিছুর জন্য আগে থেকে প্রস্তুত হওয়া সম্ভব নয়।’
সাক্ষাৎকারে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ভিনচিচ। আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহারকে তিনি অপরিহার্য বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আজকের ফুটবলের গতিতে সবকিছু খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার কথা আমি কল্পনাও করতে পারি না। ভিএআর চালুর পর অন্তত ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।’
বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ ও সফল রেফারিং ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন স্লাভকো ভিনচিচ।
কালের সমাজ/এসআর

