ঢাকা শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফাইনালে দোষী সাব্যস্ত দু’দলের চার খেলোয়াড় ও এক কর্মকর্তা

স্পোর্টস ডেস্ক | জুলাই ৩০, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম বিশ্বকাপ ফাইনালে দোষী সাব্যস্ত দু’দলের চার খেলোয়াড় ও এক কর্মকর্তা

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে স্পেন। অন্যদিকে ফাইনাল শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাকর ঘটনার কারণে নতুন করে চাপে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়-কর্মকর্তাসহ স্পেনের এক ফুটবলারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে ফিফা। এখন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষই চলে আসে আলোচনার কেন্দ্রে । ঘটনার পর তদন্ত শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে ফিফা।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ১(আই) ধারায় তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি হামলার অভিযোগ, এর একটি সম্পন্ন হামলা এবং অন্যটি হামলার চেষ্টা। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।

আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। বদলি বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ অসৌজন্যমূলক আচরণের। একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিও।

ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

এর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পরও বিতর্কে জড়ায় আর্জেন্টিনা। উদযাপনের সময় কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করে।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়, যাতে ৯০০–এর বেশি মানুষ নিহত হন।

ব্যানার প্রদর্শনের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’ অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সমর্থন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।

ফাইনালের ঘটনার পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও আর্জেন্টিনার আচরণের সমালোচনা করে বলেন, ‘এত বড় মাপের ফুটবলারদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!