ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হলো রাজশাহীর শিমলা পার্ক, মানতে হবে যেসব নিয়ম

মোঃ রমজান আলী, রাজশাহী ব্যুরো | জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হলো রাজশাহীর শিমলা পার্ক, মানতে হবে যেসব নিয়ম

রাজশাহী শহরের অন্যতম সবুজ অঞ্চল শিমলা পার্ককে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা পরিষদ। এ ঘোষণার ফলে এলাকাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দর্শনার্থীদের জন্য কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বার্ড ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, বছরের অধিকাংশ সময় শিমলা পার্কে ২০০টিরও বেশি প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। চখাচখি, ঘুঘু, কুবো, আবাবিল, টিটি, বাটান, পানকৌড়ি, গাঙচিল, বক, কাঠঠোকরা, ফিঙে, টিয়া, মাছরাঙা, শালিক, দোয়েল, মৌটুসি, খঞ্জনা, বুলবুলি, বেনেবউ, জলমুরগি ও কোকিলসহ অসংখ্য দেশি-বিদেশি পাখি বিশেষ করে বর্ষা ও শীতকালে এখানে বিচরণ করে।

এ ছাড়া শিমলা পার্কে খরগোশ, কাঠবিড়ালি, খাটাশ, গন্ধগোকুল, মেছোবিড়াল, বেজি, শিয়াল এবং বিভিন্ন প্রজাতির বাদুড়সহ প্রায় ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। পাশাপাশি ২৪ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ১৩ প্রজাতির উভচর প্রাণীরও আবাসস্থল এটি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা পরিষদের ৪১তম সভায় রাজশাহীর পদ্মাচরের শিমলা পার্ককে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সভায় বগুড়ার বড়বিলা বিল এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবুডাইং পর্যটন ও পিকনিক স্পটকেও একই স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিমলা পার্কের বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন অংশ থেকে জেলা প্রশাসকের বাংলোসংলগ্ন শহররক্ষা বাঁধ পর্যন্ত প্রায় ১৭ একর এলাকা এই সংরক্ষণ অঞ্চলের আওতায় থাকবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বর্ধনশীল রাজশাহী নগরের মধ্যে এমন একটি প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল সংরক্ষিত হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি গবেষণা, শিক্ষা ও প্রকৃতি পর্যটনেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সংরক্ষিত এলাকার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দর্শনার্থীদের নীরবতা বজায় রাখা, বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথ এড়িয়ে চলা, পাখির বাসা নষ্ট না করা, ঝড়ে পড়া গাছ বা ডাল সংগ্রহ না করা, ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলা, বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি না যাওয়া এবং কোনো ধরনের শিকার বা আবাসস্থল ধ্বংসের ঘটনা দেখলে প্রশাসন বা বন বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া মে থেকে জুলাই পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমে প্রবেশ সীমিত রাখার বিষয়টিও মেনে চলতে হবে।

অন্যদিকে সংরক্ষিত এলাকায় মাইক বা উচ্চ শব্দে গান বাজানো, দলবদ্ধ হইচই, আলোকসজ্জা, পলিথিন বা প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা, পিকনিক, রান্না বা আগুন জ্বালানো, বৃক্ষ কর্তন, বন্যপ্রাণী শিকার, দোকান বসানো, গবাদিপশু চরানো এবং লতা-গুল্ম ধ্বংস করা সম্পূর্ণভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

গত ৮ জুলাই বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় শিমলা পার্কের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রাজশাহীবাসীকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সবার সম্মিলিত সচেতনতাই এই বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকার প্রকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।
কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!