ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার
সংগৃহীত ছবি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার নিজেই এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র আমার কাছে দাখিল করেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্রে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, এসব শারীরিক জটিলতা এবং মানসিক অসামর্থ্যের কারণে সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ই প্রয়োজনের মুহূর্তে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথ গ্রহণ করা থাকে। একইভাবে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলমান নানা আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে যে, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি অসুস্থ হতে পারেন এবং তিনি লিখিতভাবে নিজের অসুস্থতার কারণ জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো চিকিৎসা সনদের প্রয়োজন নেই।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মাধ্যমে এ নিয়ে তৈরি হওয়া নানা গুঞ্জন, ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তার অবসান হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য থাকে না। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী পদত্যাগপত্র গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্র সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছে দেন তার একান্ত সচিব দিদারুল আলম। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গত কয়েকদিন ধরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছিল। লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের অভিযোগকে কেন্দ্র করেও আলোচনা তৈরি হয়। যদিও রাষ্ট্রপতি কয়েকটি গণমাধ্যমে বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।

সব আলোচনা ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

কালের সমাজ/এএইচবি

Link copied!