ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
এক বাবার জীবনের নির্মম মুহূর্ত

মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখেন সন্তানের নিথর দেহ

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম মরদেহ উদ্ধার  করতে গিয়ে দেখেন সন্তানের নিথর দেহ
সংগৃহীত ছবি

মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের সন্তানের নিথর দেহের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে হৃদয়বিদারক বাস্তবতা আর কী হতে পারে! একজন বাবার বুকের ভেতর সেই মুহূর্তে যে অসহনীয় শোক, অসহায়ত্ব আর বেদনা জমে ওঠে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধার করতে যান কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল সামসুল। সেসময় তিনি দেখেন, নিহত শিশুটি তারই ছেলে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শহরের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম তুহিন (১০)। সে আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কনস্টেবল সামসুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা পারাপারের সময় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় তুহিনকে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় তার। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান কনস্টেবল সামসুর। তখনও তিনি জানতেন না, যে স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করতে যাচ্ছেন, সেটি তার নিজের ছেলে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। নিজের সন্তানের নিথরদেহ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলের সেই দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, সামসুল আমাদের থানার একজন দায়িত্বশীল সদস্য। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে সে ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারে নিহত শিশুটি তার নিজের ছেলে। ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। 
কালের সমাজ/এএইচবি 

Link copied!