ঢাকা শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঢাবির ৪ শিক্ষক-কর্মকর্তা বরখাস্ত, অব্যাহতি আরও ৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক,(ঢাবি) | জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম ঢাবির ৪ শিক্ষক-কর্মকর্তা বরখাস্ত, অব্যাহতি আরও ৪

পৃথক পৃথক অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

একই সভায় অফিস শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফা পিইঞ্জকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারবিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)-কেও সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি গবেষণাপত্রে সাদৃশ্যজনিত চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকেও সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম পর্যালোচনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাইয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিনদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া একই সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম এবং অর্থ ব্যবহারের বিষয় পর্যালোচনায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

এছাড়া প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন মলচত্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট স্মৃতিস্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে।

কালের সমাজ/কে.পি
 

Link copied!